পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে রোগী রেফার কমাতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। শনিবার এক সরকারি অনুষ্ঠানে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট বলেন, অকারণে রোগী অন্যত্র পাঠানোর প্রবণতার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে জেলা হাসপাতালগুলিতে সবসময়ের নজরদারি চালাতে বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ গড়ে তোলার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
শনিবার বিধাননগর হাসপাতাল থেকে রাজ্যজুড়ে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
একই দিনে তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে নতুন একশো শয্যার একটি ইউনিটেরও উদ্বোধন করেন। সেখান থেকেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলির কথা তুলে ধরেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য ভবনে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ তৈরি করা হচ্ছে। সেখান থেকে জেলার হাসপাতালগুলির পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে। হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়ম মেনে উপস্থিত রয়েছেন কি না, রোগীরা ঠিকমতো পরিষেবা পাচ্ছেন কি না, কোনও অনিয়ম হচ্ছে কি না সবকিছুর উপর নজর রাখা হবে। এই কাজের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কর্মীও নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।আরও পড়ুন:
রোগী রেফার কমাতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর
পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগেও স্বচ্ছতা আনার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন বেসরকারি হাসপাতাল নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন তিনি। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে স্বল্প মূল্যে জমি নিয়ে গড়ে ওঠা বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে সাধারণ ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক শয্যা সংরক্ষণ রাখতে হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে চাপ বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের সেখানে ভর্তি নিতে হবে এবং তাঁদের চিকিৎসার দায়িত্বও নিতে হবে বলে সরকারের সিদ্ধান্ত।
আরও পড়ুন:
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, খুব শীঘ্রই রাজ্যের বিপুল সংখ্যক পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। এর ফলে বহু মানুষ চিকিৎসা খরচে আর্থিক সুরক্ষা পাবেন। অন্য রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকেরাও এই সুবিধা পাবেন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এছাড়াও সস্তায় ওষুধ পৌঁছে দিতে রাজ্যের হাসপাতালগুলিকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ওষুধ পৌঁছে দিতে সরকারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনঔষধি কেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের ওষুধও ভর্তুকিতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন:
পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করে এ বছর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন আরও সক্রিয়ভাবে চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য কেন্দ্রের বরাদ্দের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই রাজ্যের হাতে এসেছে বলে দাবি তাঁর।