ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে সেখানে মোট ২০ হাজার ৬৪৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। খবর আরব নিউজের।

ফিলিস্তিন সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা গেছে, একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী বা ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ১২৮ জন স্কুলশিক্ষার্থী এবং ৩৯ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ৬৩টি বিশ্ববিদ্যালয় ভবন, ১৭৯টি সরকারি বিদ্যালয় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) পরিচালিত আরও ১০৫টি বিদ্যালয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া, গাজায় ইসরাইলি অভিযানে ১ হাজার ৫৪ জন শিক্ষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৯ হাজার ১০১ জন ছিলেন স্কুলশিক্ষার্থী এবং বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ৯৭ শতাংশ ইসরাইলি হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় সেখানে ৬ লাখ ৬০ হাজারের বেশি স্কুলপড়ুয়া শিশু গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

সম্প্রতি কিছু শিক্ষার্থী অস্থায়ীভাবে স্থাপিত তাঁবুভিত্তিক বিদ্যালয়ে ফিরে এসেছে।

তবে সেখানে সীমিত পাঠ্যক্রমের আওতায় আরবি, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে।

এদিকে, গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা চলছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হামাসের তিন নেতার বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, যাদের সবাই পরে নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়।