পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির তালিকায় জায়গা করে নিলেন আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানি। ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নেয়ার তালিকা অনুযায়ী, আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর ফলে তিনি মুকেশ আম্বানি এবং মাসায়োশি সন-কে পিছনে ফেলে এশিয়ার শীর্ষ ধনীর আসন দখল করেছেন। মূলত আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারের দামে উত্থানের জেরে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হয়েছেন আদানি।
আরও পড়ুন:
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, মুকেশ আম্বানির সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৮৮ বিলিয়ন ডলার, আর সফট ব্যাঙ্কের প্রধান মাসায়োশি সনের সম্পদ ৮৭ বিলিয়ন ডলার। জাপানি বিনিয়োগ সংস্থা সফট ব্যাঙ্কের শেয়ারদরে পতনের পর সনের সম্পদ কমে যায়।
সেই সুযোগেই শীর্ষস্থানে উঠে আসেন আদানি। তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আদানি গোষ্ঠীর একাধিক সংস্থার শেয়ারে বড় লাফ দেখা গেছে। শুক্রবার আদানি গ্রিন এনার্জি-র শেয়ার প্রায় ৭ শতাংশ এবং আদানি এনার্জি সলিউশন্সের শেয়ার প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি আদানি এন্টার প্রাইজ এবং আদানি পোর্ট এন্ড স্পেশ্যাল ইকোনমিক জোন-এর শেয়ার প্রায় ২ শতাংশ করে বৃদ্ধি পেয়েছে। আদানি পাওয়ার-এর শেয়ারও ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন শেয়ারের দাম ২৩ থেকে ৫৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আনা জালিয়াতি-সংক্রান্ত অভিযোগ খারিজ করে দেওয়ার পর থেকেই আদানির সম্পদ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তি নিয়ে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ঘুষ কেলেঙ্কারিতে আদানি গোষ্ঠীর জড়িত থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একসময় গোষ্ঠীর শেয়ারের দামে বড় ধাক্কা লাগে। তবে অভিযোগ খারিজ হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করে। তারই প্রভাব পড়ে শেয়ারবাজারে। এর আগে ২০২৩ সালে একটি মার্কিন সংস্থা আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শেয়ার কারসাজি ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ তোলে। সেই রিপোর্ট প্রকাশের পর আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারে ব্যাপক ধস নামে।
গৌতম আদানির সম্পত্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পরে ভারতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি অভিযোগগুলিকে প্রমাণিত নয় বলে জানায়।আরও পড়ুন:
ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নেয়ার তালিকা অনুযায়ী, গৌতম আদানি বর্তমানে বিশ্বের ২৩তম ধনী ব্যক্তি। শুক্রবার একদিনেই তাঁর সম্পদ ২.৫ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। তালিকায় সবচেয়ে বেশি দৈনিক সম্পদ বৃদ্ধি হয়েছে কিংবদন্তি বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট-এর। তাঁর সম্পদ একদিনে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির আসনে এখনও রয়েছেন ইলন মাস্ক। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৮০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।