আবদুল ওদুদঃ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের উদ্দেশ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ৫ জুন নবান্ন থেকে প্রকাশিত এই নির্দেশনায় রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ ও তা জেলাভিত্তিক সংকলন করার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হয়েছে। এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো রাজ্যের মাদ্রাসাগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ও বিস্তারিত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা।
আরও পড়ুন:
এই প্রশাসনিক উদ্যোগের আওতায় রাজ্যের প্রতিটি ব্লক ও পুরসভা এলাকাধীন সমস্ত মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর মধ্যে যেমন স্বীকৃত, নিবন্ধিত, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসা রয়েছে, তেমনই সাহায্যহীন, অনিবন্ধিত, গোষ্ঠী বা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই সমীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর এই সমীক্ষার মাধ্যমে মাদ্রাসার পরিকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও শিক্ষাগত বিন্যাস, পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যকলাপ এবং প্রতিষ্ঠানের আইনি বা প্রশাসনিক অবস্থানের বিস্তারিত বিবরণ সংগ্রহ করবে।আরও পড়ুন:
এই তথ্য সংগ্রহের প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষাগত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং ছাত্রকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নিশ্চিত করা। দপ্তরের দাবি অনুযায়ী, যদি কোনো মাদ্রাসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসংগতি, অনিয়ম বা আইনবহির্ভূত কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হয়, তবে সরকার তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে আগামী ৫ই জুলাই, ২০২৬-এর মধ্যে একটি সমন্বিত জেলাভিত্তিক রিপোর্ট নবান্নে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন:
নবান্নের এই চিঠিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যা হলো এই সমীক্ষার উদ্দেশ্য কেবলমাত্র প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থেই সীমিত। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ করার বা কোনো শিক্ষার্থীকে স্থানচ্যুত করার মতো কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলো তাদের স্বাভাবিক শিক্ষাদান প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই চালিয়ে যেতে পারবে। বর্তমানে চলমান শিক্ষাবর্ষে পড়াশোনার পরিবেশে যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়েও দপ্তর বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে। জেলাশাসকদের এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।