পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি অফিসগুলিতে কর্মীদের মধ্যে কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতেও তৎপর হয়েছেন। কর্মচারীদের অফিসে যাওয়া আসা নিয়ে আগেই কড়া বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। মূলত সরকার চায়ছে কর্মচারীরা সঠিক এবং নিয়ম মাফিকভাবে কাজ করুক। সেই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সময়মতো অফিসে যাওয়া আসা করতে হবে।
প্রত্যেক অফিসে বায়মেট্রিক থাকবে বলেও তিনি জানান। এবার এনিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হল। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আধিকারিকদের ফেস রেকগনিশন বায়োমেট্রিক- এর মাধ্যমে হাজিরা দিতে হবে।আরও পড়ুন:
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ জুন থেকে এই নিয়ম চালু হচ্ছে। সমস্ত সরকারি অফিসে এই নিয়ম চালু করা হবে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে।
নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, কেবল রাজ্য সরকারের প্রধান প্রশাসনিক ভবনেই নয়, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে গোটা রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরে এই আধুনিক বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে । সরকারি কাজে শৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা যে এখন থেকে বাধ্যতামূলক, তা এই নির্দেশিকাতেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে ।আরও পড়ুন:
নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি অফিসে প্রবেশের সময় যেমন ফেস রিকগনিশন যন্ত্রে মুখ দেখিয়ে হাজিরা নথিভুক্ত করতে হবে, তেমনই অফিস থেকে বেরোনোর সময়েও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক । এই কড়া নিয়মের আওতা থেকে সাধারণ কর্মীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না, একমাত্র সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধানরাই এই নিয়মের বাইরে থাকবেন ।
আরও পড়ুন:
নতুন সরকারের এই নির্দেশিকায় সরকারি কর্মচারীদের অফিসে ঢোকা এবং বেরোনোর নির্দিষ্ট সময়সীমা একেবারে বেঁধে দেওয়া হয়েছে ।
প্রশাসনের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে বেলা ১১টার মধ্যে অফিসে প্রবেশ করলে তা ‘লেট’ বা দেরি হিসেবে গণ্য করা হবে ।আরও পড়ুন:
কেউ যদি সকাল ১১টার পরে নিজের দফতরে পৌঁছন, তবে তাঁকে সরাসরি ওই দিনের জন্য ‘অনুপস্থিত’ বলে চিহ্নিত করা হবে । একইভাবে ডিউটি শেষের আগে, অর্থাৎ বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে কেউ যদি অফিস থেকে বেরিয়ে যান, তবে তা ‘আর্লি ডিপার্চার’ বা সময়ের আগে প্রস্থান হিসেবে ধরা হবে । যদি কোনও কর্মী একই দিনে অফিসে দেরিতে আসেন এবং আবার সময়ের আগে বেরিয়ে যান, তবে শাস্তিস্বরূপ তাঁর একদিনের নৈমিত্তিক ছুটি বা ক্যাজুয়াল লিভ (সিএল) কেটে নেওয়া হবে ।
আরও পড়ুন:
হাজিরার নিয়মে আরও কড়াকড়ি করে প্রশাসন জানিয়েছে, ডিউটি শেষে অফিস থেকে বেরোনোর সময় বায়োমেট্রিক যন্ত্রে প্রস্থানের রেকর্ড নথিভুক্ত না করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মীকে অনুপস্থিত হিসেবেই ধরে নেওয়া হবে । এছাড়া গোটা মাসে মোট তিনদিন দেরিতে অফিসে এলে বা সময়ের আগে অফিস থেকে বেরিয়ে গেলে একদিনের সিএল বা সিসিএল (চাইল্ড কেয়ার লিভ) কেটে নেওয়া হবে ।
আরও পড়ুন:
তবে সরকারি কাজে বাইরে থাকলে নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়েছে । সরকারি কোনও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বা দফতরের কাজের কারণে যদি কোনও কর্মীর যাতায়াতে দেরি হয় বা আগে বেরোতে হয়, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধান পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন ।