পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আগামী ৮ মে শুক্রবার সন্ধ্যায় নির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। তার পরের দিন,  ৯ মে পঁচিশে বৈশাখে ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই অনুষ্ঠান ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার নবান্নে পৌঁছন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেখানে তিনি ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন। 

এদিন নবান্নে ঢোকার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভোট-পরবর্তী অশান্তি নিয়ে সরব হন।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,  ক্ষমতার পালাবদলের আবহে কোনও ধরনের হিংসা বা প্রতিহিংসার রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর দাবি,  বর্তমানে যেসব সংঘর্ষের খবর সামনে আসছে,  তার বেশিরভাগই একে অপরের বিরুদ্ধে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা করে, তার দায় দল নেবে না। কারণ,  এখনও সরকার গঠন হয়নি এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে আসেনি। শমীকের আরও বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বলে আসছিলেন যে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটবে। সেই পরিবর্তনের মধ্যবর্তী সময়টায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্ব রাজ্যপাল ও নির্বাচন কমিশনের।

এই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। ক্ষমতার পালাবদল দেখে ররদবদল করে তৃণমূল থেকে বিজেপি হয়ে গিয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন শমীক। নেতাকর্মীদের নিয়ে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র ক্ষমতার পালাবদল দেখে অন্য দল থেকে এসে বিজেপিতে জায়গা করে নেওয়ার প্রবণতা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

তিনি বলেন, বহু পুরনো কর্মী-সমর্থকদের আত্মত্যাগ ও পরিশ্রমে এ রাজ্যে দল শক্ত ভিত গড়েছে। সেই সংগঠনের চরিত্র বদলে যেতে দেওয়া হবে না।

যারা শুধুমাত্র সুযোগের আশায় দলে ঢোকার চেষ্টা করছে,  তাদের জায়গা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে দলের স্বার্থ রক্ষা করবেন বলেও ঘোষণা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। 

শমীকের সঙ্গে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতিনিধি সুনীল বনশল, পাশাপাশি রাজ্য নেতারা জ্যোতির্ময় মাহাতো ও সৌমিত্র খাঁ। মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকে মূলত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। দলীয় শিবিরে খবর, সম্ভাব্য শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উপস্থিত থাকতে পারেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কার নাম ঘোষণা করা হবে,  সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।