পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই দলের অন্দরে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় সরাসরি প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন দলের নেতা কর্মীদের একাংশ। এরজন্য তারা দলের নেতা কর্মীদের একাংশ শীর্ষ নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন। অভিযোগের তির মূলত দুই নেতার দিকে, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।  

বিজেপির তরফে এখনও পর্যন্ত ১৯টি আসন ছেড়ে বাকি কেন্দ্রগুলিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

কিন্তু রাজ্যস্তরের বহু নেতা-কর্মীরা দাবি করছেন,  ঘোষিত প্রার্থীদের বড় অংশই এলাকার মানুষের কাছে প্রায় অচেনা। অর্থাৎ বাইরের নেতাকে প্রার্থী করা হয়েছে। এই অভিযোগ তুলেই দলের ভেতরেই অসন্তোষ দেখা দ্দিয়েছে। একাংশের অভিযোগ, তৃণমূলকে সুবিধা করে দিতেই উপরতলার স্তরে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল প্রার্থী বেছে নেওয়া হয়েছে। এমনকি আরএসএসের একাংশ এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করেই সুনীল বনসল ও শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যে একতরফাভাবে প্রার্থী নির্বাচন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই টানাপোড়েন সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। আর জি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার মাকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের ভিতরে মতভেদ তৈরি হয়। দলের একটি অংশের দাবি, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই প্রস্তাবে প্রথমে রাজি ছিলেন না। কিন্তু বিরোধী দলনেতার জোরাজুরিতেই শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রার্থী করতে বাধ্য হয় দল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে এবং সেই কারণেই ওই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করতে দেরি হচ্ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করে পোস্ট ঘুরছে। সেখানে সরাসরি শমীক ভট্টাচার্য এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতা রাহুল সিনহাকে নিশানা করা হয়েছে। কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, অতীতে নির্বাচনে তাঁদের সাফল্যের রেকর্ড খুবই সীমিত। এমনও মন্তব্য করা হয়েছে যে, বামফ্রন্ট যখন রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি ছিল, তখন একটি উপনির্বাচনে তৃণমূলের সহায়তায় শমীক ভট্টাচার্য জিতেছিলেন—তার বাইরে তাঁদের বড় কোনও জয়ের নজির নেই।প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রসঙ্গ টেনে সমালোচকরা আরও দাবি করছেন, অনেক প্রার্থীই শিক্ষিত ও ভদ্র হলেও ভোট জেতার বাস্তব রাজনীতির অভিজ্ঞতা তাঁদের নেই। এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, শমীক ভট্টাচার্য নাকি নিজের ঘনিষ্ঠদের সুবিধা করে দিতেই পছন্দের প্রার্থীদের টিকিট দিয়েছেন।