পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ আগামী জুলাই মাস থেকে রাজ্যে কার্যকর হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, জুলাই থেকেই দেওয়া হবে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড। স্বাস্থ্যসাত্থীতে যাদের নাম রয়েছে তাঁরা সকলেই এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এই প্রকল্পে কি কি রোগের চিকিৎসা পাওয়া যায়, বা কি কি সুবিধা রয়েছে তা নিয়ে অনেকেই ধন্দে রয়েছেন। 

 কী থাকছে এই প্রকল্পে? 

এই প্রকল্পের অধীনে পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, সত্তরের বেশি বয়সি প্রবীণ নাগরিকদের আলাদাভাবে ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবার সুবিধা পাবেন। 

 কী কী চিকিৎসা করানো যাবে?

 

এই কার্ড থাকলে ১,৯২৯টি মেডিক্যাল ও সার্জিক্যাল চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যায়। এরমধ্যে যেমন রয়েছে ক্যানসারের কেমোথেরাপির সুবিধা তেমনি হৃদরোগের অস্ত্রোপচার (বাইপাস), কিডনি ডায়ালাইসিস এবং নিউরোসার্জারির মতো জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার সুবিধাও পাওয়া যায়। এছাড়াও একাধিক রোগের চিকিৎসা বিনামূল্যে করা যায়। 

ক্যান্সারের চিকিৎসাঃ  আয়ুষ্মান ভারতে কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি এবং ক্যানসারের অস্ত্রোপচার করানো যাবে।

হাড়ের চিকিৎসা: এক্ষেত্রে রয়েছে বড় অস্ত্রোপচারের সুবিধা। যেমন জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট, ফ্র্যাকচার বা হাড়ের অস্ত্রোপচার।

হৃৎপিণ্ডের চিকিৎসাঃ এখেত্রেও থাকছে বড় সুবিধা। ওপেন হার্ট সার্জারি করা যাবে।

এছাড়াও, পেসমেকার ইমপ্লান্টেশন, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি এবং অন্যান্য হৃদরোগের চিকিৎসা করানো সম্ভব হবে আয়ুষ্মান ভারতে। 

স্নায়ুরোগের চিকিৎসাঃ স্নায়ু সংক্রান্ত জটিল রোগের চিকিৎসা সম্ভব আয়ুষ্মান ভারতে। এছাড়াও, মস্তিষ্কের সার্জারি, স্পাইন সার্জারি করানো যাবে। 

কিডনির চিকিৎসাঃ কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো সুবিধা যেমন থাকছে আয়ুষ্মান ভারতে তেমনি নিয়মিত ডায়ালাইসিস করানোও যাবে।

গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি: এক্ষেত্রে লিভারের চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। তাছাড়াও পেটের জটিল অস্ত্রোপচার করানো যাবে।  

শুধু এখানেই শেষ নয়, এসবের পাশাপাশি থাকছে চোখের ছানি অপারেশন, কানের সার্জারি, পুড়ে গেলে চিকিৎসা এবং প্রসূতিদের জটিল অস্ত্রোপচারও সম্ভব আয়ুষ্মান ভারত কার্ড দিয়ে। 

 কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?

 

আরও একাধিক সুবিধা রয়েছে আয়ুষ্মান ভারতে। এই কার্ড থাকলে ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি চিকিৎসা করানো যাবে ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যাবে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগেও পাওয়া যাবে খরচ। সেক্ষেত্রে ভর্তির আগে তিন দিন পর্যন্ত চিকিৎসা ও সেবা-শুশ্রষার খরচ পাওয়া যাবে। হাসপাতালের বেড ভাড়া ও খাবারের খরচও পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও মিলবে একাধিক সুবিধা। সেক্ষেত্রে ওষুধ ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সঞ্জামের জন্য খরচ পাওয়া যাবে। এর পাশাপাশি পাওয়া যাবে নন-ইনটেনসিভ ও ইনটেনসিভ কেয়ার সার্ভিসের সুবিধা। রোগ নির্ণয় ও পাশাপাশি ল্যাবরেটরি পরীক্ষার খরচও পাওয়া যাবে। এসবের পাশাপাশি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেও বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রেও ছাড়াও পাওয়ার ১৫ দিন অবধি চিকিৎসা ও সেবার খরচ পাওয়া যাবে।