পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়া কাঁপানো ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবার ভার্চুয়াল দুনিয়া ছেড়ে বাস্তবের নির্বাচনী রাজনীতিতে পা রাখার তোড়জোড় শুরু করল। মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার একদল শিক্ষিত বেকার যুবক ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-কে একটি অফিশিয়াল রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, আসন্ন নির্বাচনগুলির জন্য দলের প্রতীক হিসেবে আস্ত একটি ‘আরশোলা’ চিহ্ন বরাদ্দ করারও আনুষ্ঠানিক আর্জি জানিয়েছে তারা। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে এই সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি (Memorandum) জমা দেওয়া হয়েছে।

এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের খবর চড়াও হতেই মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সোলাপুরের জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর এক ছাত্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমি সমাজকর্মে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেও আজ বেকার। শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও আমাদের হাতে কোনও চাকরি নেই। সরকার আমাদের দিকে নজর দিচ্ছে না বলেই দেশে বেকারত্ব বাড়ছে।

এর ওপর দেশের শীর্ষ পদে বসে যদি দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা আমাদের মতো শিক্ষিত বেকারদের ‘আরশোলা’ বলে সম্বোধন করেন, তবে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটি আমাদের আত্মসম্মানে আঘাত করেছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সরকারকে প্রশ্ন করলেই যদি আরশোলা তকমা পেতে হয়, তবে আমরা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেই আমাদের শক্তি দেখাব।”

আন্দোলনকারী ছাত্ররা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রতীকী দলের উল্কাবেগী জনপ্রিয়তার কথাও তুলে ধরেন।

মাত্র পাঁচ দিনে ইনস্টাগ্রামে এই আন্দোলনের ফলোয়ার সংখ্যা কোটি পার করেছে। আন্দোলনের সাথে যুক্ত এক ছাত্র বলেন, “ইনস্টাগ্রামেই আমাদের শক্তি স্পষ্ট। আমাদের সিজেপি সদস্য অভিজিৎ দিপকে এই আন্দোলনের কারণে নানা ধরণের হুমকি পাচ্ছেন। তবে আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, মহারাষ্ট্র তথা গোটা দেশের যুবসমাজ এবং সমর্থকরা শক্ত হাতে অভিজিৎ দিপকের পেছনে দাঁড়িয়ে রয়েছে।” এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন স্থানীয় সামাজিক কর্মী শেখর বাঙ্গালে। তাঁর মতে, যুবসমাজের প্রতিবাদের কণ্ঠস্বরকে যদি ‘আরশোলা’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়, তবে এই আন্দোলনের একটি আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।