উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: সুন্দরবনের তুলো চাষের অবস্থা খতিয়ে দেখতে নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রমের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র ঘুরে গেলেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞগন।জয়নগর ২নং ব্লকে তুলো চাষে রোগ-পোকার উপদ্রব কেমন ঘুরে দেখলেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন  উপকূলবর্তী লবণাক্ত জমিতে ধান পরবর্তী ফসল হিসেবে তুলো চাষ একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। কৃষি দপ্তরের আর্থিক অনুমোদনে ও নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরিচালনায় এই জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রবি ও গ্রীস্ম মরসুমে তুলো চাষ হয়ে আসছে।

 

জয়নগর ২নং ব্লকের বাইশহাটা পঞ্চায়েতের যৌথিয়া অঞ্চলে প্রায় ২০০ জন চাষি ৬০০ বিঘা জমিতে তুলো চাষ করেছেন। এখন গাছে বোল (তুলোর ফল) এসেছে।  এই অবস্থায় তুলো গাছে রোগ পোকার আক্রমণ ও তার ব্যবস্থাপনা ক্ষতিয়ে দেখতে শুক্রবার চাষিদের মাঠ প্রদর্শন করলেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।  উপস্থিত ছিলেন ভারত সরকারের কৃষি মন্ত্রালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রীয় সমন্বিত কীট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের (কলকাতা) উপ নির্দেশক ডঃ পাবেল মজুমদার, রাজ্য কৃষি দপ্তরের যুগ্ম কৃষি অধিকর্তা (প্ল্যান্ট প্রোটেকশন ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল) অভিজিৎ ঘোষ, জয়নগর ২নং ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা দেবাশিষ সাহু,নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের শস্য সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ডঃ প্রবীর কুমার গরাই, শস্য বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ডঃ সোমনাথ সরদার ও  এই কেন্দ্রের বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী ও প্রধান ড: চন্দন কুমার মন্ডল।

 

ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্যে যেখানে পোকার আক্রমণে তুলো চাষিদের নাজেহাল হতে হয়, সেখানে আমাদের সুন্দরবন সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই অঞ্চলে তুলো চাষে রোগ পোকার আক্রমণ প্রায় নেই বললেই চলে। এর অন্যতম কারন হল এখানকার তুলো চাষের মরসুম।  এখানে যেহেতু রবি-গ্রীস্ম মরসুমে তুলো চাষ হয়, তাই তুলোর অন্যতম প্রধান শত্রু আমেরিকান বোলওয়ার্ম -এর অনুকূল আবহাওয়া আসতে আসতে তুলোর গুটি তোলা হয়ে যায়। তবে এখানে তুলোর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে সবুজ শোষক পোকা।  কৃষি বিশেষজ্ঞরা মাঠ পরিদর্শন করে এদিন জানালেন “সবুজ শোষক পোকা উপস্থিত থাকলেও তা অর্থনৈতিক ক্ষতির সীমার মধ্যে থাকায় এবং বর্তমানে ফসল তোলার সময় হয়ে আসায় নতুন করে কীটনাশক প্রয়োগের দরকার নেই”। আর এই তুলো চাষ সুন্দরবনের চাষিদের কাছে বিপ্লব ঘটিয়েছে নিমপীঠ কেবিকের হাত ধরে।