পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর নিয়ম মেনে পরিবারের সদস্যরা তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু তার ঠিক দু’দিন পরেই সবাইকে চমকে দিয়ে জীবিত অবস্থায় ঘরে ফিরে এলেন তিনি। আর এই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের খুন্তি জেলায়। ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির আকস্মিক প্রত্যাবর্তনে একদিকে যেমন স্বস্তিতে পরিবার, অন্যদিকে তেমনই তৈরি হয়েছে এক বিরাট রহস্য— তাহলে যে দেহটিকে নিজের সন্তান বা আত্মীয় ভেবে সসম্মানে সমাধিস্থ করা হলো, সেটি আসলে কার?

পুলিশ জানিয়েছে, খুন্তি জেলার পাত্রাতোলি গ্রামের বাসিন্দা ৪৫ বছরের বিশ্রাম মুণ্ডা গত ১০ মে একটি বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হন।

কিন্তু তার পর আর তিনি বাড়ি ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা চারদিকে বহু খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনও সন্ধান পাননি। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক একদিন পর স্থানীয় একটি নালা থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে বিশ্রামের পরিবারের সদস্যরা খুন্তি সদর হাসপাতালে গিয়ে দেহটি সনাক্ত করেন। মৃতদেহের উচ্চতা, শারীরিক গঠন এবং মুখের অবয়ব হুবহু বিশ্রাম মুণ্ডার মতো হওয়ায় পরিবার এবং গ্রামবাসীদের মনে কোনও সন্দেহই জাগেনি।
তাঁরা নিশ্চিত হন যে এটিই বিশ্রামের দেহ। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের পর পুলিশ মৃতদেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেয়। এরপর আদিবাসী সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে দেহটি সমাধিস্থ করা হয়।

কিন্তু এই ঘটনার কয়েকদিন পরেই ঘটে সেই অবিশ্বাস্য কাণ্ড। খুন্তি শহরে বিশ্রামের মেয়ের একটি ভাড়া বাড়ি রয়েছে।

সবাইকে স্তম্ভিত করে দিয়ে আচমকা সেই মেয়ের বাড়িতে এসে হাজির হন খোদ ‘মৃত’ বিশ্রাম মুণ্ডা! তাঁকে জীবিত দেখে পরিবারের সদস্যরা ভূত দেখার মতো চমকে ওঠেন। চোখের সামনে বিশ্রামকে অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রথমে কেউ বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। পরে নিজেকে আসল বিশ্রাম দাবি করে তিনি জানান, কাউকে কিছু না জানিয়েই তিনি প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে রামগড় এলাকায় একটি কাজে চলে গিয়েছিলেন।

খুন্তির মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বরুণ রাজক বুধবার এক সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, “ভুল সনাক্তকরণের কারণেই এই চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। দুই ব্যক্তির চেহারার অসম্ভব মিল থাকার কারণে পরিবারটি ভুল করে অন্য একটি মৃতদেহ নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করে।” নালা থেকে উদ্ধার হওয়া ওই মৃত ব্যক্তিটি আসলে কে, তা জানা এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশ জানিয়েছে, আসল পরিচয় জানার জন্য ইতিমধ্যেই কবর থেকে দেহটি পুনরায় উত্তোলন করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।