পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ কুরবানির ঈদে পশু জবাইয়ে ছাড় চেয়ে মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। কি রায় হয় সেদিকেই তাকিয়ে ছিল গোটা রাজ্য। তবে পশু জবাই সংক্রান্ত রাজ্যের নির্দেশিকায় হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের জারি করা বিজ্ঞপ্তির ওপর কোনও স্থগিতাদেশ দিল না। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গরু কুরবানি করা ইসলামের কোনো অপরিহার্য ধর্মীয় বিধান নয়।

একইসঙ্গে আদালত রাজ্যকে অবিলম্বে বিজ্ঞপ্তিটি সংশোধন করতে বলেছে। তাতে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে যে খোলা জায়গায় বা প্রকাশ্যে গরু ও মোষ জবাই করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। বেঞ্চের মতে, গরু কুরবানি ঈদ উল আযহার জন্য বাধ্যতামুলক অংশ নয়। সেই বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছে উচ্চ আদালত। পাশাপাশি পশু জবাইয়ে অব্যাহতি চেয়ে রাজ্যের কাছে যে আবেদন আসবে তা নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে হাইকোর্ট।
 

মামলার রায়ে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ১৩ মে রাজ্য সরকারের যে বিজ্ঞপ্তি সেটি ২০১৮ সালে আদালতের নির্দেশেরই বাস্তবায়ন করেছে। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, "রাজ্যশ্রী চৌধুরী বনাম রাজ্য মামলায় "২০১৮ সালের হাইকোর্টের নির্দেশেকেই বাস্তবায়ন করেছে রাজ্য সরকার। তাই আমরা ১৩ মে রাজ্যের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতাদেশ দেওয়ার কোনও কারণ খুঁজে পাইনি।" এদিকে, বকরি ঈদের অনুমতি চাওয়া আবেদনকারীদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর হল, হাইকোর্ট ১৯৫০ সালের আইনের ১২ ধারার অধীনে অব্যাহতির আবেদনগুলোর বিষয়ে রাজ্য সরকারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এই আইনের ১২ ধারায় সরকারকে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে অব্যাহতি প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু চলতি মাসের ২৭ বা ২৮ তারিখে কুরবানির ঈদ রয়েছে তাই বিষয়টি বিবেচনা করে রাজ্যকে রায়ের পর থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে।