রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে নতুন সরকার। এবার সরকারি আধিকারিক ও কর্মচারীদের জন্য নতুন কঠোর নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। সরকারি অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য, তথ্য বা নথি প্রকাশ, এমনকি বিভিন্ন মিডিয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
মুখ্যসচিব মনোজ আগরোয়াল-এর জারি করা এই নির্দেশিকা রাজ্যের সমস্ত দফতর, কমিশনার, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দ্রুত এই সার্কুলার অধীনস্থ অফিসগুলিতে পৌঁছে দিতে হবে এবং কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।
নবান্ন সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কর্মচারীদের সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে মত প্রকাশ এবং প্রশাসনিক তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগের জেরেই এই পদক্ষেপ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এর ফলে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরকারি কর্মীদের যোগাযোগের উপর কড়া নজরদারি চালাবে রাজ্য সরকার।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আইএএস, ডব্লিউবিসিএস, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিসের আধিকারিকদের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী, জেল কর্মী, সরকার-পোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মী, বোর্ড, পুরসভা, পুরনিগম ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে।


বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী কোনও সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি বেসরকারি বা স্পনসরড অনুষ্ঠানে যোগদানের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এছাড়া সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনও সরকারি তথ্য, নথি বা প্রশাসনিক কাগজপত্র তুলে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের অনুমতি ছাড়া সংবাদপত্র বা সাময়িকীতে লেখালিখি, কোনও পত্রিকা সম্পাদনা কিংবা সম্প্রচার মাধ্যমে বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, সরকারি কর্মচারীদের কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা বা বিরূপ মন্তব্য থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।