উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ নিমপীঠের রামকৃষ্ণ আশ্রম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে বুধবার পালিত হয় বিশ্ব মৌমাছি দিবস।দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে প্রায় ৫০ জন মৌমাছি পালক,কৃষক ও কৃষি উপকরণ বিক্রেতা এদিনের অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, আধুনিক মৌমাছি পালনে স্লোভেনিয়ার বিখ্যাত মৌপালক অ্যান্টনি জান্সার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁর জন্মদিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য পৃথিবী জুড়ে ২০ মে'কে বিশ্ব মৌমাছি দিবস পালন করা হয়।

খাদ্য সুরক্ষা, জীব বৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে মৌমাছিদের গুরুত্ব অপরিসীম। নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী ও প্রধান ড: চন্দন কুমার মন্ডল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৌমাছিদের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে মৌমাছিদের বাঁচাতে কীটনাশকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

এদিনের অনুষ্ঠানে এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজ্য কৃষি দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত উপ কৃষি অধিকর্তা ও বিশিষ্ট পতঙ্গবিদ, ড: কিংকর সাহা।তিনি সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থায় মৌমাছিদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, কৃষকরা ফসল ও মধু উৎপাদনের মাধ্যমে দু-দিক থেকেই লাভবান হন। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের শস্য সুরক্ষাবিদ ও মৌমাছি বিশেষজ্ঞ, ড: প্রবীর কুমার গরাই বলেন,আধুনিক মৌমাছি পালনের বিজ্ঞানসম্মত দিক গুলি তুলে ধরে সকলকে মৌমাছিপালনে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সমাজের সকলস্তরে মধ্যে মৌমাছিদের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার ও আহ্বান করেন। বিশেষভাবে তিনি চাষিদের অনুরোধ করেন যেন তারা তাদের জমিতে  মৌমাছির বাক্স বসাতে বাধা না দেন এবং গাছে ফুল আসার সময় কৃষি বিষ প্রয়োগ না করেন । আমরা সকলে মিলে এই উপকারী পতঙ্গগুলির অবদানের কথা মাথায় রেখে এর পালনে ও সংরক্ষণে উদ্যোগী হলে এই দিনটির পালন সার্থক হবে।