বঙ্গভোটের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে ফরাক্কার প্রাক্তন বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করলেন তিনি। আর তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা—তাহলে কি এবার বিজেপির পথেই হাঁটছেন মনিরুল?

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ফরাক্কা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন মনিরুল ইসলাম। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী না করে সামশেরগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক আমিরুল ইসলামকে টিকিট দেয় তৃণমূল।

সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত রবিবার নিউ ফরাক্কায় সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন প্রাক্তন বিধায়ক।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মনিরুল বলেন, “রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতি, কাটমানি ও দাদাগিরির বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। এমন মুখ্যমন্ত্রী আগে থাকলে দুর্নীতিমুক্ত পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হতো।”

একইসঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগও তোলেন তিনি।

তাঁর দাবি, “আমি তৃণমূল ছাড়িনি, তৃণমূলই আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। যে দলে সম্মান নেই, সেখানে আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে থাকা যায় না।”

মনিরুলের অভিযোগ, তৃণমূলে “একনায়কতন্ত্র” চলছে এবং দলের সমস্ত সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, “দলের মধ্যে রাজতন্ত্র ও জমিদারি প্রথা চলছে। ৭৪ জন বিধায়ককে টিকিট না দেওয়া হয়েছে, বহুজনের আসন বদল করা হয়েছে।

এটা আমি মেনে নিতে পারিনি।”

তবে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি এখনও তাঁর “অগাধ শ্রদ্ধা” রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মনিরুল। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দল করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে বহু বছর পিছিয়ে দিয়েছেন। সিন্ডিকেটরাজ ও লুটতরাজে মানুষ অতিষ্ঠ।”

যদিও ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানাননি মনিরুল। তাঁর বক্তব্য, অনুগামী ও সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন।