উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ জৈষ্ঠ্য মাসের প্রখর গরমে সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার কর্মবিরতিতে সামিল হলেন জয়নগর বিদ্যুৎ দফতরের অধীন এন এস এন্টারপ্রাইজের ঠিকা শ্রমিকরা। বকেয়া বেতন এবং বর্তমান বেতন না পাওয়ায় সোমবার সকাল থেকে কর্মবিরতিতে সামিল হন ঠিকা শ্রমিকরা। 

জয়নগর বিদ্যুৎ দফতরের অধীন এন এস এন্টারপ্রাইজের ঠিকা শ্রমিকরা সকাল ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ১৬ ঘন্টা দুটো শিফটে আপৎকালীন মোবাইল পরিষেবা দেন গ্রাহকদের। জয়নগর, বকুলতলা, মথুরাপুর, মন্দিরবাজার, মগরাহাট থানা এলাকার প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহকের আপদকালীন বিদ্যুৎ পরিষেবার কাজ করে এই ঠিকা শ্রমিকরা। মিঠুন পাল,আতিকুল লস্কর,কানাই সরদার সহ আন্দোলন কারী কয়েকজন ঠিকা শ্রমিক এদিন বলেন, "আমরা রোদ জল ঝড় বৃষ্টিতে আপৎকালীন বিদ্যুৎ পরিষেবা দিই।আমরা জয়নগরের এন এস এন্টারপ্রাইজের কাছে ঠিকা শ্রমিক হিসাবে কাজ করি।

২০২০ সালে আমফানের সময় থেকে টানা ৪৩ দিন স্পেশাল ডিউটি করি,সেই টাকা আজও আমরা পাই নাই।তারপরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহড়ু ও জয়নগরে প্রোগামের সময় স্পেশাল ভাবে বিদ্যুৎ এর কাজ করি।সে টাকা ও আজ পর্যন্ত পাই নাই। এমনকি গত এপ্রিল মাসের বকেয়া টাকা এখনো পাইনি। আমাদের ঠিকা মালিক প্রতাপ দাসকে বারবার বলার পরেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় আমাদের সাধারণ মানুষের পরিষেবা বিঘ্নিত হবে জেনেও কর্মবিরতিতে নামতে বাধ্য হয়েছি। আমরা ইতিমধ্যে জয়নগর বিদ্যুৎ দফতরের সহকারী ইঞ্জিনিয়ারের কাছে আমাদের কর্মবিরতির কারণ সম্পর্কিত চিঠি জমা দিয়েছি।
আমরা চাই আমাদের কষ্টের টাকা দ্রুত দিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুক আমাদের ঠিকা মালিক প্রতাপ দাস।"

এ ব্যাপারে এন এস এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার প্রতাপ দাস বলেন, "২০২০ সাল সহ কয়েকটা  সময়ের বকেয়া টাকা ওরা পায়। কিছু সমস্যার কারনে তা এখনো দেওয়া সম্ভব হয়নি।আমি চাই ওরা আমার সাথে বসে সমস্যার সমাধান করে নিক।এর জন্য সাধারণ মানুষের পরিষেবা বিঘ্নিত করে ওরা ঠিক করেনি।" এ ব্যাপারে জয়নগর বিদ্যুৎ দফতরের সহকারী ইঞ্জিনিয়ার সইফুল্লা সরদার বলেন, "ওই ঠিকা শ্রমিকরা সরাসরি আমাদের কেউ নয়।

ঠিকা কোম্পানীর অধীন কর্মরত ওরা। তাই বকেয়া  টাকা কেন তারা এতদিন পায়নি সেটা ওই ঠিক কোম্পানীই বলতে পারবে। কারণ আমাদের দফতর বিদ্যুৎ পরিষেবা ঠিক রাখতে ঠিক সময়েই পেমেন্ট করে দেয় ওই ঠিকা কোম্পানীকে।তবে ওই ঠিকা শ্রমিকদের ডেপুটেশন গ্রহন করেছি।আর এই কর্মবিরতির ও বকেয়া কেন দেওয়া হয়নি সে ব্যাপারে কৈফিয়ত তলব করা হবে ওই ঠিকা কোম্পানীকে।" তবে যতক্ষন না তাদের দাবি মিটছে ততক্ষণ তারা লড়াই চালিয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঠিকা শ্রমিকরা।