পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ইউএপিএ-র মতো অত্যন্ত কঠোর এবং দমনমূলক আইনের ক্ষেত্রেও ‘জামিনই নিয়ম এবং জেল ব্যতিক্রম’— সোমবার এক মামলার শুনানিতে এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল দেশের শীর্ষ আদালত। জম্মু ও কাশ্মীরে সীমান্তপার মাদক চোরাচালান এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে দীর্ঘ চার বছর ধরে বন্দি এক ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি ভি নাগরথনা এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইঞার ডিভিশন বেঞ্চ জম্মু-কাশ্মীরের হান্ডওয়ারার বাসিন্দা সৈয়দ ইফতিকার আনদ্রাবির জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইউএপিএ আইনের ৪৩ডি(৫) ধারা— যা জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে— তা কখনওই একজন নাগরিককে অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলে আটকে রাখাকে বৈধতা দিতে পারে না।
এই ধারাটিকে অবশ্যই সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) এবং ২২ নম্বর অনুচ্ছেদের (গ্রেফতারি ও আটক সংক্রান্ত সুরক্ষা) অধীনে থেকেই কার্যকর হতে হবে। ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে উল্লেখ করে, “জামিনই নিয়ম এবং জেল ব্যতিক্রম’— এটি সংবিধানের ২১ এবং ২২ নম্বর অনুচ্ছেদ থেকে উদ্ভূত একটি সাংবিধানিক নীতি। আইনি শাসন দ্বারা পরিচালিত যেকোনো সভ্য সমাজের মূল ভিত্তি হলো, অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত একজন ব্যক্তিকে নির্দোষ বলে গণ্য করা।”আরও পড়ুন:
শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার করে দেয়, ২০২১ সালে ইউএপিএ আইনের অধীনে জামিন সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ঐতিহাসিক ‘কে এ নাজিব’ মামলার রায়টি একটি অলঙ্ঘনীয় আইন। দেশের কোনো নিম্ন আদালত, হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টেরই কম সদস্য বিশিষ্ট কোনো বেঞ্চ এই রায়কে হালকাভাবে নিতে, এড়িয়ে যেতে বা অমান্য করতে পারে না।