পুবের কলম  ওয়েবডেস্ক :
হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় অবশেষে জামিন পেলেন প্রখ্যাত কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়।  কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে বিচারক অশোক হালদার শর্তসাপেক্ষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। তবে জামিন পেলেও কবির ওপর বেশ কিছু কড়া আইনি বিধিনিষেধ আরোপ করেছে আদালত। জামিনের শর্ত অনুযায়ী, আদালতের আগাম অনুমতি ছাড়া কবি শ্রীজাত তাঁর কলকাতার বাড়ির এলাকা এবং কৃষ্ণনগর আদালত চত্বরের বাইরে কোথাও যেতে পারবেন না। একই সঙ্গে ২ হাজার টাকার বন্ডে তাঁর এই জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।

২০১৯ সালে ফেসবুকে পোস্ট করা কবির ‘অভিশাপ’ কবিতাটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা দীর্ঘ সাত বছর পর ফের নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।  এদিন  জামিন পাওয়ার  পর  শ্রীজাত  বলেন ,বিষয়টা  বিচারাধীন ,তাই কোনও মন্তব্য  করবনা। আমার আইনজীবী  যা বলার  বলবেন ।   
মামলা অনুযায়ী, ২০১৯ সালে শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ফেসবুক পেজে ‘অভিশাপ’ নামে একটি কবিতা পোস্ট করেছিলেন। অভিযোগ, সেই কবিতার ছত্রে ছত্রে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছিল এবং একটি নির্দিষ্ট লাইনে শিবলিঙ্গকে নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল।
এই ঘটনার পরই রমিত শীল নামে এক তরুণ আইনজীবী কৃষ্ণনগর সিজেএম  আদালতে শ্রীজাতর বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি এসিজেএম  আদালতে স্থানান্তরিত হয়। এই মামলায় এর আগে আদালত থেকে কবিকে একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও তিনি হাজিরা দেননি। ফলস্বরূপ, আদালতের নির্দেশ অমান্য করার কারণে গত মাসে শ্রীজাতর বিরুদ্ধে একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা  জারি করে কৃষ্ণনগর আদালত। বিধানসভা  নির্বাচনের আবহে একজন প্রথম সারির কবির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতেও ব্যাপক চাপানউতোর শুরু হয়।
শনিবার এই মামলায় সশরীরে আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিনের আর্জি জানান শ্রীজাত। আদালতে তাঁর জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন মামলাকারীর আইনজীবী বিশ্বদেব টামটা। তিনি বিচারকের কাছে সওয়াল করেন যে, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে আদালতের নির্দেশ ও সমনকে ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করেছেন, তাই কোনোভাবেই যেন তাঁর জামিন মঞ্জুর করা না হয়। এমনকি কবির পাসপোর্টও বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান তিনি। পাল্টা শ্রীজাতর আইনজীবী সৌরভ ভট্টাচার্য এই দাবির বিরোধিতা করে বলেন, তাঁর মক্কেলের কাছে মাত্র একবারই সমন পাঠানো হয়েছিল। দু'পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর এসিজেএম অশোক হালদার পাসপোর্ট আটকে রাখার দাবি নাকচ করলেও, এলাকার বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে শর্তসাপেক্ষে কবির জামিন মঞ্জুর করেন।