পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ফরাক্কা চুক্তির উপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করলেনবাংলাদেশের মন্ত্রী তথা শাসকদল বিএনপি-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর দাবি, গঙ্গার জলবণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা হবে, তা'ই আগামী দিনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি নির্ধারণ করবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই ফরাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তাই দ্রুত নতুন চুক্তি সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
শনিবার ঢাকায় ফরাক্কা দিবস উপলক্ষে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি। সেই সভা থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং জলবণ্টন ইস্যুতে সরব হন ফখরুল।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তা নির্ভর করবে ফরাক্কা চুক্তি কত দ্রুত এবং কীভাবে সম্পন্ন হয় তার উপর। একই সঙ্গে তিনি ভারতের উদ্দেশে নতুন করে আলোচনার আহ্বান জানান। বাংলাদেশের মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফখরুল বলেন, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনও চুক্তি কখনও মেনে নেওয়া হবে না। জনগণের অধিকার ও দেশের জলসম্পদ রক্ষায় বিএনপি আপস করবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।আরও পড়ুন:
এর আগেও ভারতের বিরুদ্ধে নদীর জল আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছিলেন বিএনপি মহাসচিব। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তিনি ফরাক্কা বাঁধকে বাংলাদেশের জন্য মরণফাঁদ বলে উল্লেখ করেন।
তাঁর অভিযোগ, ভারত একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করে অভিন্ন নদীগুলির জল নিজেদের দিকে সরিয়ে নিচ্ছে, যার ফলে বাংলাদেশ পরিবেশ ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বিপদের মুখে পড়ছে। এবার সেই জলবণ্টন সমস্যাকেই সরাসরি দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত করলেন তিনি। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেও এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের অগস্টে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন শেখ হাসিনা। পরে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। তাঁর সরকারের পতনের পর দীর্ঘ সময় ধরে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং প্রধানমন্ত্রী হন তারেক রহমান।আরও পড়ুন:
নতুন সরকার গঠনের পর তারেক রহমান স্থানীয় সরকার দপ্তরের দায়িত্ব দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। বিএনপি-র অন্দরেও তারেকের পরেই ফখরুলের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এরই মধ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে ঢাকা। যদিও এখনও পর্যন্ত দিল্লির তরফে কোনও উত্তর মেলেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, হাসিনাকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তার পাশাপাশি এবার ফরাক্কা চুক্তিও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে।