পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে ক্রমাগত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কাই সত্যি হলো। অবশেষে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো বিক্রয় মূল্য বৃদ্ধি করল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার (১৫ মে) থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন দামের ফলে একধাক্কায় অনেকটা পকেট কাটল সাধারণ মানুষের। পেট্রোল ও ডিজেলের পাশাপাশি সিএনজি-র দামও কেজি প্রতি ২ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের প্রভাব সরাসরি পড়ল দেশে।

এক নজরে দেখে নিন সংশোধিত পেট্রোলের দাম (লিটার প্রতি):

কলকাতা- ১০৮.৭৪  | +৩.২৯ |
মুম্বই- ১০৬.৬৮  | +৩.১৪ |
চেন্নাই- ১০৩.৬৭  | +২.৮৩ |
দিল্লি- ৯৭.৭৭  | +৩.০০ |

জ্বালানি তেলের পাশাপাশি চাপ বাড়ল পরিবহণ খরচ ও সিএনজি চালিত গাড়ির মালিকদের ওপর। দিল্লিতে সিএনজি-র দাম কেজি প্রতি ৭৭.০৯ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯.০৯ টাকায়। অন্যদিকে, মুম্বই মেট্রোপলিটন রিজিয়নে সিএনজি-র দাম কেজি প্রতি ৮৪ টাকা করা হয়েছে।

কেন এই দাম বৃদ্ধি?

গত মার্চ মাসে প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম বাড়লেও সাধারণ ব্যবহারের পেট্রোল ও ডিজেলের দাম দীর্ঘ চার বছর অপরিবর্তিত ছিল।

এর ফলে ইন্ডিয়ান অয়েল (IOCL), ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL)-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি প্রতিদিন প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছিল। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া দামে তেল কিনলেও খুচরো গ্রাহকদের কাছে তারা সেই দাম বাড়াতে পারছিল না। সংস্থাগুলি বারবার সরকারের কাছে দাম বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে আসছিল।

রাজনৈতিক মহলের মতে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই মোদি সরকার এতদিন জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে সায় দেয়নি। কারণ, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অর্থ হলো পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের ওপর। তবে আন্তর্জাতিক সংকট ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর বিপুল ক্ষতির কথা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত এই মূল্যবৃদ্ধির পথে হাঁটতে বাধ্য হলো কেন্দ্র। মধ্যবিত্তের হেঁশেল এবং পকেটে এই দাম বৃদ্ধি কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।