পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দেশজুড়ে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলা এবং সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য সামনে আনল ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার (আই পি টি) । সংস্থাটির প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল, এই চার মাসে দেশের আটটি রাজ্যে চরমপন্থী ধর্মীয় সংগঠনের হামলায় অন্তত ১৩ জন মুসলিমের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২ মহিলা, ১ কিশোর এবং ১ প্রবীণ ব্যক্তি।
সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই সংস্থার রিপোর্টে আরও একটি আত্মহত্যার ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার এক ব্যক্তির উপর হামলার পর মানসিক চাপে তাঁর স্ত্রী আত্মঘাতী হন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বিহারে। সেখানে চারটি হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি একটি আত্মহত্যার ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের প্রথম চার মাসে অন্তত ১২টি রাজ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি, ১৮টি রাজ্যে বিদ্বেষমূলক অপরাধ, হুমকি ও ভয় দেখানোর একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।
একই সময়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধেও আক্রমণ ও বৈরিতার ঘটনা বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর প্রদেশে দুই মুসলিম ভাই ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক পুলিশি এনকাউন্টারে নিহত হন। অভিযোগ, একটি তাড়া করার ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রকাশ্যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানোর পরই ওই দুই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিযানে এক মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকেও প্রশ্নের মুখে তুলেছে সংস্থাটি। অন্যদিকে দিল্লিতে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যেই আরও এক মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
আইপিটির তথ্য অনুযায়ী, রমজান মাস এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচার পালনের ঘটনায় ৪০ জনেরও বেশি মুসলমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের মোহাম্মদগঞ্জ গ্রামে একটি খালি বাড়িতে জুমার নামাজ পড়ার অভিযোগে ১২ জন মুসলিম পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সেই ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও, রমজানের সময় গঙ্গায় নৌকায় বসে ইফতার করার অভিযোগে ১৪ জন মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল, তাঁরা চিকেন বিরিয়ানি খেয়ে তার উচ্ছিষ্ট নদীতে ফেলেছিলেন।
এস আই আর প্রক্রিয়ায় ১৩টি রাজ্যে ৫ কোটি ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। রিপোর্টে অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় একটি সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া, রিপোর্টে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধিদের পর্যবেক্ষণের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে উত্তর প্রদেশ ও অসমের মতো রাজ্যে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতার সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন মুসলিম, দলিত ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। এছাড়া মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সংঘর্ষের ঘটনাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে দুই শিশুসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি। শুধু তাই নয় সংস্থার পর্যবেক্ষণ, বহু ক্ষেত্রেই মুসলিম ভুক্তভোগীরা থানায় গিয়ে ন্যায়বিচার পাননি। অভিযোগ, কোথাও মূল অপরাধের ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।