তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক নাটকে বড় মোড়। আস্থা ভোটে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করলেন টিভিকে প্রধান সি. জোসেফ বিজয়। বুধবার বিধানসভায় অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে তাঁর সরকারের পক্ষে পড়ে ১৪৪টি ভোট। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, জয়ললিতার দল এডিএমকের ২৫ জন ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক প্রকাশ্যে বিজয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এর ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে কোনও দল বা জোট এককভাবে সেই সংখ্যা ছুঁতে পারেনি।
অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। যদিও বিজয় নিজে দুটি কেন্দ্র থেকে জেতায় কার্যত দলের বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭।আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের জন্য বিজয়ের পাশে দাঁড়ায় কংগ্রেস, দুই বাম দল, ভিসিকে এবং মুসলিম লিগ। কংগ্রেসের ৫, বামেদের ৪-সহ সহযোগী দলগুলির সমর্থনে মোট ১২০ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজয়। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুব বেশি না থাকায় শুরু থেকেই তাঁর সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল।
আরও পড়ুন:
সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বুধবার বিধানসভায় আস্থা ভোটের মুখোমুখি হন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেখানেই চমক দেয় এডিএমকের একাংশ।
দলনেতা ই. পালানিস্বামীর আপত্তি উপেক্ষা করে ২৫ জন এডিএমকে বিধায়ক বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন। এর ফলে আস্থা ভোটে সহজেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায় টিভিকে সরকার।আরও পড়ুন:
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই এডিএমকের ভিতরে প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। দলের একাংশের মতে, বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে যাওয়া উচিত। সেই কারণেই বহু বিধায়ক বিজয়ের নেতৃত্বকে সমর্থন করতে আগ্রহী ছিলেন। মঙ্গলবার থেকেই জোর জল্পনা চলছিল, এডিএমকের অন্তত ৩০ জন বিধায়ক বিজয়ের পাশে যেতে পারেন। শেষ পর্যন্ত ২৫ জন প্রকাশ্যে সমর্থন জানান।
আরও পড়ুন:
এই ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সি ভি শণ্মুগম এবং এস পি ভেলুমণি। তাঁদের দাবি, দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক তাঁদের অবস্থানের প্রতি সহানুভূতিশীল। যদিও তাঁরা এখনও দল ভাঙার পথে হাঁটতে চান না বলেই জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, পালানিস্বামীর উচিত বাস্তব পরিস্থিতি মেনে বিজয়ের সরকারকে সমর্থন করা।
আরও পড়ুন:
তবে এদিনের আস্থা ভোটে অংশ নেয়নি এম কে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোটাভুটিতে অনুপস্থিত থেকে ডিএমকে আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চাইছে। অন্যদিকে বিজেপির এক বিধায়ক এবং পিএমকের চার বিধায়ক ভোটদানে বিরত থাকেন।
আরও পড়ুন:
আস্থা ভোটে জয় পাওয়ার পর টিভিকে শিবিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বিজয় বিধায়কদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এটি শুধু একটি সরকারের জয় নয়, তামিলনাড়ুর মানুষের আশার জয়। আমরা উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং মানুষের স্বার্থকে সামনে রেখেই কাজ করব।"