পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকার গঠনের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সোমবার থেকেই মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টনের প্রক্রিয়া শুরু করলেন শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে একাধিক বৈঠকের পর বিজেপি সরকারের প্রথম দফার দায়িত্ব বণ্টনের ছবি স্পষ্ট হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে দলের প্রথম সারির নেতাদের হাতে।

বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি।

ব্রিগেডের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে শপথ নিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল-সহ মোট পাঁচজন মন্ত্রী। তবে সে দিন দপ্তর ঘোষণা হয়নি। অবশেষে সোমবার শুরু হল মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন।
বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ দিলীপ ঘোষকে একসঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সামলাবেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, প্রাণিসম্পদ বিকাশ এবং কৃষি বিপণন দপ্তর।
গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তাঁর হাতে তুলে দিয়ে দল স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।
দলের আর এক পরিচিত মুখ অগ্নিমিত্রা পাল পেয়েছেন নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব। পাশাপাশি তাঁর হাতেই থাকছে পুর দপ্তরের দায়িত্বও। শহরাঞ্চলের উন্নয়ন এবং মহিলা কল্যাণ— দুই ক্ষেত্রেই তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

উত্তরবঙ্গের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিশীথ প্রামাণিককে।

তিনি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের পাশাপাশি ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরও সামলাবেন। উত্তরবঙ্গে বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে নিশীথের ভূমিকা আগে থেকেই উল্লেখযোগ্য ছিল। সেই কারণেই তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি অশোক কীর্তনীয়াকে খাদ্য দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রেশন ও খাদ্য বণ্টন নিয়ে অতীতে নানা বিতর্কের আবহে এই দপ্তরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নতুন সরকার।

অন্যদিকে ক্ষুদিরাম টুডুর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে আদিবাসী উন্নয়ন, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ, সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর। এখন দেখার মন্ত্রীরা কতটা যোগ্যতার সঙ্গে তাদের দপ্তর সামলান এবং জনগণের স্বার্থে কাজ করেন।