পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ইরানের কারাগারে বন্দি অবস্থায় ক্রমাগত শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শান্তিতে নোবেলজয়ী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে তাঁকে সাময়িক জামিনও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

নার্গিসের পরিবারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে,  দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভোগার কারণে তাঁকে কিছু সময়ের জন্য কারাগারের বাইরে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। পরিবারের দাবি, চলতি বছরের শুরুতেই কারাগারে থাকা অবস্থায় দুবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন নার্গিস।

কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে ওঠে। এমনকি দ্রুত চিকিৎসা না হলে কারাগারেই তাঁর মৃত্যু হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। ফাউন্ডেশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে রাজধানী তেহরানের পারস হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরাই চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন।

নার্গিসের আইনজীবী চিরিনে আরদাকানি জানান, দীর্ঘ কারাবাস ও অসুস্থতার কারণে প্রায় ২০ কেজি ওজন কমে গেছে এই মানবাধিকারকর্মীর।

এমনকি কথা বলতেও এখন তাঁর কষ্ট হচ্ছে। আইনজীবীর কথায়, তাঁকে চেনায় যাচ্ছে না। 

উল্লেখ্য, ৫৩ বছর বয়সী নার্গিস মোহাম্মদি গত ১২ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হন। ইরানের পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে একটি স্মরণসভায় যোগ দেওয়ার পর তাঁকে আটক করা হয়।এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে ৭ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযোগ ছিল,  অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে সমাবেশে অংশ নেওয়া এবং ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকা। এর মধ্যে শুধু এই অভিযোগেই ৬ বছরের সাজা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। এর আগেও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচার  এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র-এর অভিযোগে ১৩ বছর ৯ মাসের সাজা ভোগ করছিলেন নার্গিস। তবে গুরুতর অসুস্থতার কারণে ২০২৪ সালের শেষ দিকে তাঁকে তেহরানের এভিন কারাগার থেকে অস্থায়ীভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।ইরানে নারী অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষার আন্দোলনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় নার্গিস মোহাম্মদি ২০২৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।