বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের মধ্যে দেশের রাজনীতি নিয়ে আগ্রহের অভাব নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশ সফরে গেলে ‘মোদি-মোদি’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে প্রবাসী ভারতীয়দের সভা। একইভাবে বিদেশে গেলে বিরোধী নেতাদের সঙ্গেও দেখা করতে উৎসাহ দেখান বহু ভারতীয়। কিন্তু বাস্তবে ভোটদানের ক্ষেত্রে সেই আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। সদ্যসমাপ্ত পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের পরিসংখ্যান অন্তত তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির নির্বাচনে মোট প্রবাসী ভারতীয় ভোটারদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৮ শতাংশ। অর্থাৎ বিপুল সংখ্যক ওভারসিজ ইলেক্টর ভোটদানে অংশই নেননি।

পশ্চিমবঙ্গে প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা ছিল মোট ১৫৭ জন। তাঁদের মধ্যে ১০০ জন পুরুষ এবং ৫৭ জন মহিলা। কিন্তু দুই দফার ভোটে ভোট দিয়েছেন মাত্র একজন। তিনি একজন মহিলা ভোটার। যদিও গোপনীয়তার কারণে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন।
ভারতে প্রবাসী ভোটারদের জন্য এখনও অনলাইন ভোটের ব্যবস্থা চালু হয়নি। বিদেশে থাকলেও যাঁরা অন্য দেশের নাগরিকত্ব নেননি, তাঁরা ভারতীয় ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত রাখতে পারেন।

তবে ভোট দিতে হলে তাঁদের দেশে এসে সংশ্লিষ্ট বুথে উপস্থিত থাকতে হয় এবং আসল পাসপোর্ট দেখিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হয়। এই জটিল প্রক্রিয়ার কারণেই প্রবাসী ভোটারদের বড় অংশ ভোটে অংশ নেন না বলে মনে করা হচ্ছে।
পাঁচ রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী ভোটার রয়েছে কেরলে। সেখানে ওভারসিজ ইলেক্টরের সংখ্যা ২ লক্ষ ৪২ হাজার ৯৩ জন। অথচ ভোট দিয়েছেন মাত্র ২০ হাজার ৩৬৬ জন। তামিলনাড়ুতে ২ হাজার ৭৩০ জন প্রবাসী ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র ১৬ জন। বিজেপি শাসিত অসমে ২৩ জন প্রবাসী ভোটার থাকলেও ভোট দিয়েছেন কেউই না।

সব মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ ৪৫ হাজার প্রবাসী ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র ২০ হাজার ৩৮৩ জন। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ৮।
বহুদিন ধরেই প্রবাসী ভারতীয়দের একটি বড় অংশ অনলাইন ভোট বা ই-ভোটিংয়ের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, অনলাইনে প্রকৃত ভোটারই ভোট দিচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করা এখনও সম্ভব হয়নি। তাই আপাতত সেই পথে হাঁটতে চাইছে না কমিশন।
তবে কমিশনের কর্তাদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় লোকসভা নির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেশি হয়। ভবিষ্যতে তাঁদের ভোটদানে আরও উৎসাহিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।