পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ছত্তিসগড়ের দান্তেওয়াড়ায় ৭৬ জন নিরাপত্তারক্ষীর মর্মান্তিক মৃত্যু মামলায় বড় ধাক্কা খেল রাজ্য পুলিশ। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণের অভাবে ১০ জন অভিযুক্ত মাওবাদীকে খালাস করে দেওয়ার যে রায় দান্তেওয়াড়া নিম্ন আদালত দিয়েছিল, গত ৫ মে সেটিই বহাল রাখল ছত্তিসগড় হাইকোর্ট। মামলার রায় দিতে গিয়ে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ায় ‘গুরুতর গাফিলতি’র কথা উল্লেখ করেছে আদালত।
আরও পড়ুন:
ছত্তিসগড় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রমেশ সিনহা এবং বিচারপতি রবীন্দ্র কুমার আগরওয়ালের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য পুলিশের করা আপিল মামলাটি খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, পুলিশ এই মামলার তদন্তে চূড়ান্ত অপটুতার পরিচয় দিয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণ করার মতো নূন্যতম অকাট্য তথ্যপ্রমাণও পেশ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। ফলে ২০১৩ সালে নিম্ন আদালত যে রায় দিয়েছিল, তাতে হস্তক্ষেপ করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ খুঁজে পায়নি সর্বোচ্চ আদালত।আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গগত, ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে দান্তেওয়াড়ার জঙ্গলে মাওবাদীদের অতর্কিত হামলায় শিউরে উঠেছিল দেশ। সেই হামলায় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (CRPF) ৭৫ জন জওয়ান এবং ছত্তিসগড় পুলিশের এক জন কর্মী নিহত হয়েছিলেন। ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ইতিহাসে এটি ছিল মাওবাদীদের চালানো অন্যতম বৃহৎ ও নৃশংস হামলা।
আরও পড়ুন:
এই ঘটনার পর তদন্তে নেমে পুলিশ ১০ জন মাওবাদীকে গ্রেপ্তার করে। দান্তেওয়াড়ার কোন্টায় বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হয়। ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি দান্তেওয়াড়া দায়রা আদালত জানায়, অভিযুক্তদের দোষী প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত নথি বা প্রমাণ পুলিশ দিতে পারেনি। ফলে ১০ অভিযুক্তকেই মুক্তি দেওয়া হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন ১০ জন অভিযুক্তের মধ্যে দুই জনের মৃত্যুও হয়েছে। এদিন হাইকোর্ট পুলিশকে ভর্ৎসনা করে বলেছে, এত বড় একটি নাশকতামূলক ঘটনার পর পুলিশি তদন্তে যে ধরণের তৎপরতা ও নির্ভুলতা প্রয়োজন ছিল, তা বর্তমান ছিল না।