পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ পরমাণু হামলা নিয়ে নীতিতে বিরাট পরিবর্তন আনল উত্তর কোরিয়া। নয়া নীতি অনুযায়ী, দেশের প্রশাসক কিম জং উন যদি বিদেশি রাষ্ট্রের হামলায় নিহত হন তাহলে পরমাণু হামলা চালানো হবে। সম্প্রতি সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে এই নীতি বদল করা হয়েছে। যার ফলে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

বিভিন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিয়ংইয়ংয়ে গত মার্চ মাসে ১৫তম সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে এই সংশোধনী গৃহীত হয়। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টিলিজেন্স সার্ভিসের তরফে এবিষয়ে উচ্চপদস্থ কর্তাদের সামনে বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়। সংশোধিত ব্যবস্থায় কিম জং উনই উত্তর কোরিয়ার সমগ্র পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক হিসেবে বহাল থাকছেন। তবে নতুন নীতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে,  দেশের সর্বোচ্চ নেতার ওপর আঘাত এলে কীভাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

বলা হয়েছে এক্ষেত্রে পরমাণু হামলা চালানোর জন্য কোনও নির্দেশের প্রয়োজন পড়বে 

আরও বলা হয়েছে, নতুন নীতি অনুযায়ী, যদি শত্রুপক্ষ পরমাণু অস্ত্র পরচালানা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ওপর হামলা চালায় সেক্ষেত্রেও কোন নির্দেশ ছাড়াই পরমাণু হামলা চালানো হবে। এরজন্য কোনও নির্দেশের প্রয়োজন হবে না।  আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ করে উত্তর কোরিয়া স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে। কোনওভাবেই তারা দেশের প্রশাসকের ওপর হামলা বরদাস্ত করবে না।

অনেকেই বলেছেন এই নীতি আগে থেকেই ছিল, কিন্তু, এবার সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। প্রসঙ্গত, আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির। আর তার পরেই উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নীতিতে বদল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। 

উল্লেখ্য, কিম জং উনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত কড়া। তিনি সবসময় কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে চলাফেরা করেন এবং সাধারণ বিমানযাত্রা এড়িয়ে সুরক্ষিত ট্রেন ব্যবহার করতেই বেশি স্বচ্ছন্দ। তবে এই নতুন নীতি কিমের গুরুত্ব আরও বাড়াল বলেই মনে করা হচ্ছে।