উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ আবার মাধ্যমিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জয়জয়কার। মেধা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে জেলার একাধিক পড়ুয়া। তার মধ্যে দশম স্থান অর্জন করেছে দক্ষিণ বারাসতের অয়ন হালদার। এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় যেন উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এবার একাধিক ছাত্রছাত্রী রাজ্যের মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়ে জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে। সেই তালিকায় নজর কেড়েছে দক্ষিণ বারাসত শিবদাস আচার্য হাই স্কুলের ছাত্র অয়ন হালদার। মাধ্যমিকে ৬৮৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মেধাতালিকায় দশম স্থান অধিকার করেছে সে।
সাধারণ পরিবারের এই মেধাবী ছাত্রের সাফল্যে এখন খুশির হাওয়া গোটা দক্ষিণ বারাসত এলাকা জুড়ে।অয়নের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মনোযোগী এবং পরিশ্রমী ছাত্র ছিল সে। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি সময় মেনে রুটিন তৈরি করে প্রস্তুতি নিয়েছিল মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা স্বচ্ছল না হলেও পড়াশোনার ক্ষেত্রে কখনও কোনও আপস করেনি অয়ন। তার বাবা-মা সবসময় ছেলেকে মানসিকভাবে উৎসাহ দিয়েছেন। সংসারের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে ও ছেলের পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন তাঁরা।ফল প্রকাশের পর থেকেই অয়নের বাড়িতে শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় জমাতে শুরু করেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং স্থানীয় মানুষজন।
এলাকার মানুষ জনের কথায়, অয়ন শুধু নিজের পরিবারের নয়, গোটা এলাকার গর্ব। তার এই সাফল্য আগামী দিনে আরও বহু ছাত্রছাত্রীকে অনুপ্রাণিত করবে। অয়ন নিজেও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে সে। উচ্চশিক্ষা নিয়ে সমাজের জন্য কাজ করতে চায় বলেও জানিয়েছে এই কৃতী ছাত্র। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি।কারণ দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফলই ধরা পড়েছে ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যের মাধ্যমে। অনেক অভিভাবকের চোখে দেখা গেছে আবেগ আর গর্বের ঝলক। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান সময়ে নানা বিভ্রান্তি ও প্রতিযোগিতার মধ্যেও সন্তানরা যে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রেখে এমন সাফল্য অর্জন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে জেলার ছাত্রছাত্রীরা রাজ্যস্তরে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি শিক্ষা মহলও।আরও পড়ুন:
শিক্ষকদের একাংশের মতে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ছাত্রছাত্রীদের এই ধারাবাহিক সাফল্যের পিছনে রয়েছে সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত অনুশীলন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা। শুধু শহরাঞ্চল নয়, গ্রামাঞ্চলের ছাত্রছাত্রীরাও এখন সমানভাবে প্রতিযোগিতায় নিজেদের তুলে ধরছে। প্রযুক্তির ব্যবহার, অনলাইন ও অফলাইন পড়াশোনার সমন্বয় এবং অভিভাবকদের সচেতনতা শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে বলেও মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল আরও একবার প্রমাণ করে দিল, সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে জেলার ছাত্রছাত্রীরাও রাজ্যের সেরাদের তালিকায় জায়গা করে নিতে সক্ষম। দক্ষিণ বারাসতের অয়ন হালদারের এই সাফল্য সেই বার্তাকেই আরও জোরালোভাবে সামনে এনে দিল। তার এই অর্জনে গর্বিত পরিবার, বিদ্যালয় সহ গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা।