দীর্ঘ সাড়ে সাত দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে বিজেপি। সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? সেই জল্পনার অবসান হতে পারে আজ, শুক্রবারই।
ভোট-পরবর্তী হিংসার আবহে আজ দুপুর ৩টেয় নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানেই নির্বাচিত হবে বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা।
এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া তদারকির জন্য বৃহস্পতিবার রাতেই কলকাতায় পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে। সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। বৈঠকের আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র সঙ্গে আলাদা বৈঠক করতে পারেন শাহ।
দলীয় সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের রূপরেখা অনেকটাই আগে থেকেই ঠিক করা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সম্মতির ভিত্তিতে অমিত শাহই পরিষদীয় দলনেতার নাম প্রস্তাব করবেন। এরপর নবনির্বাচিত বিধায়কদের সম্মতিতে সেই নাম চূড়ান্ত হবে।
বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রিত্বের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২০ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে পরাজিত করার পর থেকেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন শুভেন্দু। গত কয়েক বছরে রাজ্যে বিজেপিকে সংগঠিত রাখা এবং বিধানসভায় আক্রমণাত্মক বিরোধী রাজনীতির মুখ হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
তবে বিজেপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে শেষ মুহূর্তে চমক দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে দলের। উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথ, মধ্যপ্রদেশে মোহন যাদব কিংবা ওড়িশায় মোহনচরণ মাঝির নাম ঘোষণার সময়ও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। ফলে বাংলাতেও শেষ মুহূর্তে অন্য কোনও নাম উঠে আসে কি না, সেদিকেও নজর রাজনৈতিক মহলের।