পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এবার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন প্রবীণ আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল। বুধবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, এই লড়াই কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; কার্যত নির্বাচন কমিশন বনাম তৃণমূল কংগ্রেসের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে শীর্ষ আদালতে 'ইলেকশন পিটিশন' দায়ের করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
সিব্বলের অভিযোগের মূল তির ছিল এসআইআর প্রক্রিয়ার দিকে। তিনি দাবি করেন, যেসব এলাকায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে (ডিলিট), সেখানেই বিজেপির জয়ের হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি।
ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ও স্বচ্ছতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।আরও পড়ুন:
ভোটের সময় বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও কেন হিংসা রোখা গেল না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, "বিপুল বাহিনী থাকা সত্ত্বেও বিরোধী শিবিরের ওপর একের পর এক হামলা হয়েছে। তখন কেন্দ্রীয় বাহিনী আসলে কী করছিল?" পাশাপাশি, গণনা কেন্দ্রগুলির স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সিব্বল দাবি করেন, গণনা চলাকালীন কোনও অনিয়ম বা হিংসা হয়ে থাকলে সেই সংক্রান্ত সমস্ত ভিডিও ফুটেজ জনসমক্ষে আনা উচিত।
কমিশনের নিয়ম মেনে ওই ফুটেজগুলো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষিত আছে কি না, তা নিয়েও তিনি সতর্কবার্তা দেন।আরও পড়ুন:
ভোটের আবহে ইডি (ED)-র ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন প্রবীণ আইনজীবী। সিব্বল বলেন, নির্বাচন ঘোষণার আগে ও ভোট চলাকালীন পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল নেতাদের ওপর ইডি অভিযান চালিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে। তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা আই-প্যাকের কাজেও বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। নির্বাচনের সময় 'সব হিন্দু এক হও, নয়তো বাংলা বাংলাদেশ হয়ে যাবে'—এই ধরণের প্রচারকে তিনি জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। সিব্বল জানিয়েছেন, "ধর্মের ভিত্তিতে ভোট চাওয়া আইনত অপরাধ। এই ধরণের প্রচার এবং সামগ্রিক অনিয়মের ভিত্তিতেই আমরা নির্বাচন পিটিশন দায়ের করার কথা ভাবছি।"