পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ট্রাইবুনালে নাম সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ হাইকোর্টে আবেদন করতে পারে, এমনই স্পষ্ট বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে মালদহের মোথাবাড়িতে বিচারকদের ঘেরাওয়ের ঘটনাতেও জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাকে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার দুপুরে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রায় ২৭ লক্ষ আবেদনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১৩৯টির নিষ্পত্তি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জানান, এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন মনে হলে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে আবেদন জানানো যেতে পারে।
তাঁর কথায়, ট্রাইবুনালের কাজকর্মে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হলে হাই কোর্টই উপযুক্ত মঞ্চ।আরও পড়ুন:
এদিকে, রাজ্যে সদ্য সমাপ্ত প্রথম দফার ভোট নিয়েও শুনানিতে আলোচনা হয়। বৃহস্পতিবার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ বলেই উঠে এসেছে। আদালতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এবারের ভোটদানের হার প্রায় ৯২ শতাংশ এবং বহু পরিযায়ী শ্রমিকও ফিরে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই উচ্চ ভোটদানের হারকে 'ঐতিহাসিক' বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ছিল।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকাও তিনি প্রশংসা করেন।আরও পড়ুন:
ভোটের এই চিত্রে সন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতিরাও। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে এত বেশি ভোটদান দেখে তিনি আনন্দিত। তাঁর মতে, মানুষ যত বেশি ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, ততই গণতন্ত্র আরও মজবুত হবে এবং ভোটের গুরুত্ব বুঝতে পারলে হিংসার প্রবণতাও কমে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও জানান, প্রথম দফায় উল্লেখযোগ্য কোনও হিংসার ঘটনা সামনে আসেনি।
পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, ক্ষমতার সংঘাতে সাধারণ মানুষেরই ক্ষতি হয়।আরও পড়ুন:
শুনানির মাঝেই এক হালকা মুহূর্তও তৈরি হয়। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীকে ৪ মে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কাকতালীয়ভাবে ওই দিনই ভোটগণনা নির্ধারিত। আমন্ত্রণের প্রসঙ্গে বিচারপতি বাগচী মজার ছলে বলেন, তিনি যদি আগে কলকাতায় পৌঁছতেন, তাহলে আপ্যায়নের দায়িত্ব তাঁরই থাকত।