পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: “অত্যন্ত দুঃখজনক যে বিগত বছরগুলির নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনা থেকে কোনও শিক্ষাই নেওয়া হয়নি।”— ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালের ‘নিট-ইউজি’ পরীক্ষাতেও প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগের শুনানির সময় এই তীব্র ক্ষোভ করল দেশের শীর্ষ আদালত। পরীক্ষা পরিচালনাকারী কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত সংস্থা ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ (এনটিএ)-র বিরুদ্ধে দায়ের করা একগুচ্ছ মামলার প্রেক্ষিতে সোমবার কেন্দ্র সরকার, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এবং এনটিএ-কে নোটিশ জারি করেছে আদালত। একই সাথে, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ অনুযায়ী প্রশ্নফাঁস রুখতে যে নজরদারি কমিটি গঠন করার কথা ছিল, তার বর্তমান পরিস্থিতি কী এবং তা কেন কাজ করেনি— সেই বিষয়ে এনটিএ-র কাছে হলফনামা ও জবাব তলব করেছে আদালত।
আরও পড়ুন:
‘নিট’-এ এই ধরণের ধারাবাহিক প্রশ্নফাঁসকে এনটিএ-র একটি “প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা” বলে আখ্যা দিয়েছে ডাক্তারদের সর্বভারতীয় সংগঠন ‘ফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’। আইনজীবী তানভী দুবের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা ফেইমার এই পিটিশনে মূলত এনটিএ-কে সম্পূর্ণ অপসারণ করার অথবা এই সংস্থায় আমূল সংস্কার আনার দাবি জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
আবেদনকারীরা শীর্ষ আদালতের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রত্যক্ষ বিচারবিভাগীয় নজরদারিতে নতুন করে নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা গ্রহণ করা হোক। এনটিএ-র পরিবর্তে আরও বেশি প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত, সুরক্ষিত এবং সম্পূর্ণ একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাকে পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার জন্য কেন্দ্রকে নির্দেশ দিক আদালত।
নতুন কোনও স্বাধীন পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা গঠন না হওয়া পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হোক। এই কমিটিতে একজন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং একজন ফরেনসিক বিজ্ঞানীকে রাখারও দাবি জানানো হয়েছে।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত ৩ মে দেশজুড়ে নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষার পরেই দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর কেন্দ্র সরকার পুরো ঘটনার তদন্তভার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই-এর হাতে তুলে দেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত সপ্তাহে এনটিএ ৩ মে-র ওই পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।