পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সরকারি পদের অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগে তেলেঙ্গানার সড়ক ও ভবন নির্মাণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহন নায়েক জারুপ্লা-কে গ্রেফতার করল তেলেঙ্গানা অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনে মামলা দায়ের করে মঙ্গলবার এই প্রভাবশালী আধিকারিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর অফিস, বাসভবন এবং আত্মীয় ও সহযোগীদের বাড়ি মিলিয়ে একযোগে মোট ১৫টি জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়ে এই কুবেরের ধনের হদিস পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

এসিবি সূত্রে জানা গেছে, নথিপত্র অনুযায়ী উদ্ধার হওয়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির সরকারি মূল্য আনুমানিক ১৭.৯৫ কোটি টাকা দেখানো হলেও, হায়দরাবাদ ও তার সংলগ্ন এলাকার ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ছাড়িয়ে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তল্লাশি অভিযানে মোহন নায়েকের যে সমস্ত বিলাসবহুল সম্পত্তি ও স্থাবর সম্পত্তির হদিস মিলেছে।

নিজামাবাদ জেলার ডিচপল্লী মণ্ডলের মুল্লাঙ্গি গ্রামে ১৯.৩৮ একর জুড়ে বিস্তৃত ৫টি কৃষি জমি (সরকারি মূল্য প্রায় ৮২.৯ লক্ষ টাকা)। এছাড়া কোম্পাল্লিতে ৩টি এবং গাচিবৌলিতে ৪টি মিলিয়ে মোট ৭টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট (সরকারি মূল্য প্রায় ৭.৩৫ কোটি টাকা)। মিয়াপুরে একটি তিনতলা ট্রিপ্লেক্স ভিলা (মূল্য প্রায় ২.৫ কোটি টাকা), কুকাতপল্লীতে একটি নতুন বাড়ি (মূল্য ৬২.১৪ লক্ষ টাকা) এবং নিজামপেটে আরও একটি নতুন ভিলা কেনার জন্য অগ্রিম বাবদ দেওয়া নগদ ১ কোটি টাকা।

স্থাবর সম্পত্তির পাশাপাশি ওই সরকারি আধিকারিকের ডেরা থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও গহনা উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে— নগদ ৫৫ লক্ষ টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা প্রায় ১.৪৪ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট ও আমানত।

প্রায় আড়াই কেজি ওজনের সোনার গহনা। যার বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা এবং ৬ কেজি ওজনের রুপোর গহনা। এছাড়াও ১.২৬ কোটি টাকার বহুমূল্য গৃহস্থালির সামগ্রী, ২৫ লক্ষ টাকা মূল্যের দুটি গাড়ি এবং ৯টি মোবাইল ও ৪টি ল্যাপটপ সহ ১১.২৫ লক্ষ টাকার ইলেকট্রনিক গ্যাজেট।

দুর্নীতি দমন শাখার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, "অভিযুক্ত আধিকারিক তাঁর চাকরিজীবনে অবৈধ উপায়ে এই বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। তাঁর আরও কোনো বেনামি সম্পত্তি বা ব্যাংক লকার রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত সম্পত্তির যাচাইকরণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও জারি রয়েছে।" গ্রেফতারির পর মোহন নায়েক জারুপ্লা-কে হায়দরাবাদের এসিবি মামলার বিশেষ আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।