পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বিধানসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূলে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে। দলের মধ্যে বিদ্রোহ, দলত্যাগের মতো ঘটনা লেগেই রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে বৈঠকে যোগদান করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দল যেভাবে ভেঙে খানখান হচ্ছে তাতে যেকোনও প্রকারে ঘুরে মরিয়া তৃণমূল নেত্রী।
এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি এই চরম দুঃসময়ে মমতাকে গ্রহণ করে তাহলে কি প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্ব সেই সিদ্ধান্ত মানতে পারবেন?আরও পড়ুন:
রাজ্যের কংগ্রেস কর্মীরা বরাবরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আসছে। প্রদেশ কগ্রেসের একাংশ মনে করছেম যে এই সময় মমতাকে সঙ্গে আনা মানে হল তৃণমূলের ১৫ বছরের দুর্নীতি এবং অপসাশনের দায় নিজেদের গায়ে মাখা। আর সেই দলে রয়েছেন অধীর চৌধুরী, আব্দুল মান্নানের মতো প্রবীণ নেতারা।
এ বিষয়ে আব্দুল মান্নান জানিয়ে দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোন ঐক্য নয়, কংগ্রেসের উপরেই তার আস্থা রয়েছে। একই সুর শোনা গিয়েছে অধীরের কন্ঠেও। তিনি বলেন, একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে ভাঙিয়েছিলেন। এবার তাঁকে গান্ধী পরিবারের কাছে গিয়ে হাতে পায়ে ধরতে হচ্ছে। সেই পাপের ফল ভোগ করতেই হবে। যদিও অন্য কথা বলছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তিনি জানান, দলে যদি কেউ আসতে চান তাহলে মেনে নিতে হবে যে রাহুল গান্ধী দলের সর্বোচ্চ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ । আর যদি কারো গায়ে দুর্নীতি লেগে থাকে, নিজেকে বাঁচাতে কেউ কংগ্রেসের ছাতার তলায় আসতে চান তাহলে তার জন্য দরজা খোলা হবে না।আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, এর আগের দিন ১০ জনপথে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ১০ জনপথে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছেন, ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে সদলবলে মিলিয়ে যেতে পারেন। ইন্ডিয়া জোট এবার কোন পথে হাঁটে সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।