পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সুটিয়ায় নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস খুনের ঘটনায় এবার সরাসরি নাম জড়াল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নিহত বরুণের দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা নন্দদুলাল দাস প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম 'ষড়যন্ত্রকারী' আখ্যা দিয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে নিহত শিক্ষকের পরিবারের তরফে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছিল।

গত মঙ্গলবার বনগাঁর পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্তের কাছে একটি অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন নন্দদুলাল দাস।

তাঁর স্পষ্ট দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রভাবেই ২০১২ সালের ওই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হয়নি। পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার উদ্দেশ্যে খুনের সম্পূর্ণ দায় তৎকালীন বিরোধী দল সিপিএমের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করেছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। এই কারণেই নন্দদুলাল তাঁর অভিযোগপত্রটিকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে নতুন করে তদন্ত শুরুর দাবি জানিয়েছেন। পেশায় স্কুলশিক্ষক নন্দদুলাল আরও জানিয়েছেন যে, বরুণ হত্যার বিচার চেয়ে সরব হওয়ার কারণে বিগত সরকারের আমলে তাঁকে 'মাওবাদী' তকমা দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল এবং লাগাতার হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল।

রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ন্যায়বিচারের আর্জি জানিয়েছিল বরুণ বিশ্বাসের পরিবার। মুখ্যমন্ত্রীর তরফে আশ্বাস মেলার পরই এই মামলার তদন্তে নতুন করে তৎপর হয়েছে সিআইডি। ইতিমধ্যেই তদন্তকারী আধিকারিকরা গোবরডাঙায় নিহত শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে ঘুরে এসেছেন। আগামী ৩১ আগস্ট বনগাঁ আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে, যেখানে বরুণের বাবার সাক্ষ্য নেওয়ার কথা। ওই দিনই নন্দদুলালের অভিযোগটি পুলিশ এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করবে কি না, তা স্পষ্ট হবে।