পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সিকিমের নামচি জেলায় এনএইচপিসি তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণাধীন টানেল বিপর্যয়ে পরিস্থিতি আরও হৃদয়বিদারক রূপ নিয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা এক ধাক্কায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০। প্রাথমিকভাবে সাধারণ ধসের কথা বলা হলেও, পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে টানেলের অভ্যন্তরে জমে থাকা মিথেন গ্যাসের ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটে। মঙ্গলবার নামচির পুলিশ প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিপুল প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে।
টানেলের ধ্বংসস্তূপ ও বিষাক্ত ধোঁয়ার মধ্যে এখনও অন্তত ৫ জন শ্রমিক গত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকা পড়ে রয়েছেন।আরও পড়ুন:
নামচির পুলিশ সুপার সোনাম ডি ভুটিয়া জানিয়েছেন, সোমবার বেলা ১টা নাগাদ সমারডং এলাকায় যখন এই বিস্ফোরণ ঘটে, তখন প্রকৌশলী ও প্রকল্প কর্মকর্তা সহ মোট ২৫ জন শ্রমিক টানেলের ভেতরে কাজ করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে টানেলের প্রবেশপথ ধসে মুখ বন্ধ হয়ে যায় এবং ভেতরে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। সোসাইটি ও উদ্ধারকারী দলগুলির যৌথ অভিযানে মঙ্গলবার পর্যন্ত ১২টি মরদেহ উদ্ধার করে বাইরে আনা সম্ভব হয়েছে।
বাকি ৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হলেও তাঁদের দেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছে।আরও পড়ুন:
টানেলের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য ও বিষাক্ত মিথেন গ্যাস জমা হয়ে থাকায় সেখানে অক্সিজেন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ফলে উদ্ধারকারীদের প্রতি পদক্ষেপে জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, সেনার ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ এবং সিকিম পুলিশের যৌথ উদ্ধারকারী দল মুখে বিশেষ অক্সিজেন মাস্ক পরে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন। ধসের পর টানেলের দেওয়ালগুলি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় থাকায় যেকোনো মুহূর্তে ফের ধস নামার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তা সত্ত্বেও আশার আলো বাঁচিয়ে রেখে বাকি ৫ জন আটকে থাকা শ্রমিককে জীবিত অবস্থায় বের করে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।