পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনা নিয়ে নজিরবিহীন মন্তব্য করলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি অতুল শ্রীধরন। দেশজুড়ে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং যোগী আদিত্যনাথ সরকারের 'বুলডোজার নীতি' সম্পর্কিত একটি বিভক্ত রায়ে ৫১ পৃষ্ঠার মতামত পেশ করতে গিয়ে বিচারপতি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে পর্যবেক্ষণ করেন, রাম মন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনাটি ভারতীয়দের সততা ও নৈতিকতার চরম অধঃপতনকে নির্দেশ করে। দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সমূলে উপড়ে ফেলতে ১৯৮৮ সালের 'দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন' সংশোধন করে দুর্নীতিগ্রস্তদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি সুপারিশ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
দেশে দুর্নীতি যেভাবে সাধারণ মানুষের জীবনে স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিচারপতি শ্রীধরন বলেন, সাধারণ একজন ভারতীয় দুর্নীতিকে ততক্ষণ পর্যন্ত ভুল মনে করেন না, যতক্ষণ না তিনি নিজে হাতেনাতে ধরা পড়ছেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-এর ২০২৫ সালের রিপোর্টে ১৮২টি দেশের মধ্যে ভারত ৯১তম স্থানে রয়েছে— এই তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এই লজ্জাঙ্কও আমাদের আর লজ্জিত করে না।
রাম মন্দির ট্রাস্টের অনুদান তছরূপের বিতর্ক প্রসঙ্গে বিচারপতি বলেন, "রাম মন্দিরে অনুদানের টাকা চুরির সাম্প্রতিক বিতর্কটি সব সীমানা পার করে দিয়েছে। এই চুরির পরেও যাদের কোনো যায় আসে না, তাদের আর কোনো কিছুতেই লজ্জিত করা সম্ভব নয়। এটি ভারতীয়দের সততার চরম অধঃপতনকে স্পষ্ট ফুটিয়ে তোলে।"আরও পড়ুন:
পুরসভার নিয়ম লঙ্ঘনের অজুহাতে অভিযুক্তদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার সরকারি নীতিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিচারপতি শ্রীধরন। তিনি বলেন, কোনো অপরাধ ঘটার সাথে সাথে বাড়ি ভেঙে ফেলা আসলে সমাজের "রক্তপিপাসা" মেটানোর এক কৃত্রিম প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও আধিকারিকরা যেভাবে আইনের তোয়াক্কা না করে বুলডোজার চালাচ্ছেন, তাতে মনে হয় শীর্ষ আদালতের রায়কে তারা পাত্তাই দিচ্ছেন না।