পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরে কোটি কোটি টাকার দান এবং গয়না চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (মিম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। সোমবার পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের বিজনোরে একটি বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হায়দরাবাদের সাংসদ উপহাসের ছলে দাবি করেন, এই ট্রাস্টে যদি কোনো মুসলিম সদস্য থাকতেন, তবে এতক্ষণে সরকার তাঁকে এনকাউন্টারে গুলি করে মারত এবং তাঁর বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিত।

মামলায় পুলিশের ধীরগতির পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওয়াইসি অভিযোগ করেন, পুলিশ এই হাই-প্রোফাইল মামলার মূল অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন পর্যন্ত করছে না। ওয়াইসি বলেন, "ওদের উচিত ছিল ট্রাস্টের মধ্যে একজন মুসলিমকে রাখা।

তাহলে তাঁর এনকাউন্টার করে এবং বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিয়ে এতক্ষণে মামলাটাই রফা করে দেওয়া হতো। কিন্তু এখন (অভিযুক্তরা) তাঁরা বহাল তবিয়তে আনন্দ করছেন। চম্পত রাই এখন মজা ওড়াচ্ছেন।" এর আগেও যোগী সরকারকে নিশানা করে ওয়াইসি প্রশ্ন তুলেছিলেন—রাজ্যে মুসলিমদের ক্ষেত্রে যেভাবে চটজলদি গুলি চালানো বা বুলডোজার নীতি নেওয়া হয়, এই মামলার অভিযুক্তদের ক্ষেত্রেও কি একই নীতি নেওয়া হবে?

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলায় প্রথম এফআইআর রুজু করে অযোধ্যা পুলিশ। এফআইআর-এ নাম থাকা ৮ জন অভিযুক্তকেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই মন্দিরের দান গণনার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ধৃতেরা হলেন—অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রমাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রাম শঙ্কর যাদব (ওরফে তিন্নু)। এছাড়া বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির নামও এই তালিকায় রয়েছে।