পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কলকাতায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মিছিলে অশান্তি পাকানোর অভিযোগে ধৃত ১৬ জন আন্দোলনকারী শেষ পর্যন্ত জামিন পেলেন। মঙ্গলবার মুখ্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক নজিরবিহীন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জামিন মঞ্জুর হয়। প্রথমে ধৃতদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হলেও, পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশিকাকে হাতিয়ার করে ফের শুনানি হয় এবং জনপ্রতি ৫০০ টাকার বন্ডে প্রত্যেককে জামিন দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ধৃতদের বিচারকের সামনে পেশ করা হলে তাঁদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন জানান।
কিন্তু সরকারি আইনজীবী এর বিরোধিতা করে ধৃতদের জেল হেফাজতের আর্জি জানান। সেই আর্জি মেনে বিচারক আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত ১৬ জনকেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শুনানিপর্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীরা সিজেপি-র সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক সমঝোতা এবং দিল্লি বা বিহারের মতো রাজ্যে নিট আন্দোলন সংক্রান্ত মামলা প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছিলেন। তবে এ রাজ্যের ক্ষেত্রে এমন কোনও সুস্পষ্ট নির্দেশিকা না থাকায় প্রাথমিকভাবে সেই যুক্তি আদালতে গ্রাহ্য হয়নি।আরও পড়ুন:
তবে দুপুর গড়ালেই পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। অভিযুক্তদের আইনজীবীদের হাতে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের প্রতিলিপি এসে পৌঁছায়, যেখানে সিজেপি-র আন্দোলনে যুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এই নির্দেশিকার ভিত্তিতে ইয়াসিন রহমান, প্রশান্ত বাগচী, রাজা সেন-সহ অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীরা পুনরায় শুনানির আর্জি জানালে ম্যাজিস্ট্রেট তা মঞ্জুর করেন।
দ্বিতীয় দফার এই শুনানিতে শীর্ষ আদালতের রায়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন ধৃতদের আইনজীবীরা।
আরও পড়ুন:
পুলিশের তরফে জানানো হয়, পাঁচজনের অতীতে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পালটা সওয়ালে অভিযুক্তদের আইনজীবীরা প্রশ্ন তোলেন, ওই পাঁচজন কি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন? এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর তদন্তকারীদের কাছে ছিল না। পাশাপাশি, সরকারি আইনজীবীরাও এই পর্যায়ে আর জামিনের বিরোধিতা করেননি। ফলস্বরূপ, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আদালত ১৬ জন আন্দোলনকারীরই জামিন মঞ্জুর করে।