পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: টানা ছত্রিশ দিনের বিনিদ্র রজনী, ধর্না এবং অনশনের পর অবশেষে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে অবস্থান তুলে নিল ককরোচ জনতা পার্টি । কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সরকারের তরফে সমস্ত দাবিদাওয়ায় সম্মতি মেলার পরেই আন্দোলন প্রত্যাহারের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। সিজেপি-র পক্ষ থেকে সমস্ত আন্দোলনকারীকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। তবে রবিবার সকালে সম্পূর্ণ এক ভিন্ন মেজাজে ধরা দিয়েছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

 

এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সাময়িক অবস্থান প্রত্যাহার মানেই তাঁদের এই প্রতিবাদের শেষ নয়, ভবিষ্যতে দেশের যে কোনও অবিচারের বিরুদ্ধে এভাবেই সোচ্চার হবে তাঁর দল।
পুণে থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক হওয়ার পর উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন অভিজিৎ। কিন্তু দেশে নিট দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় শুরু হতেই তিনি ইনস্টাগ্রামে ককরোচ জনতা পার্টি গঠন করে দেশে ফেরেন এবং সরাসরি এই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। 

গত ৬ জুন থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত যন্তর মন্তরের মাটিতে দাঁড়িয়ে লাগাতার নিজেদের দাবি আদায়ে সরব হয়েছিলেন বছর তিরিশের এই যুবক।

রবিবার সকালে তিনি জানান, দীর্ঘ এই কঠিন লড়াইয়ের পর অবশেষে তিনি কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বিগত কয়েকদিন ধরে প্রবল জ্বর এবং টাইফয়েডের মতো অসুস্থতাকে সঙ্গী করেই তাঁকে এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হয়েছিল বলে তিনি ওই ভিডিও বার্তায় উল্লেখ করেছেন।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে দেশের গণতন্ত্রের এক বিশাল জয় হিসেবে দেখছে সিজেপি। তবে এই সাফল্যের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব অভিজিৎ দীপকে দেশের যুব সমাজ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের প্রতিই উৎসর্গ করেছেন। পাশাপাশি তিনি তাঁদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যাঁরা যৌক্তিক সমালোচনার মাধ্যমে এই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে সাহায্য করেছেন।