পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নিট-দুর্নীতির প্রতিবাদে আটক হওয়া পড়ুয়াদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু সেই কথা রাখেনি কেন্দ্র। এই অভিযোগ তুলে এবার ফের নতুন করে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরুর কড়া হুঁশিয়ারি দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সোমবার সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবারের মধ্যে কেন্দ্রকে এই বিষয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে একটি লিখিত চুক্তি করতে হবে। তা না হলে দেশজুড়ে আবারও তীব্র আন্দোলন শুরু হবে।
আরও পড়ুন:
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি নেতৃত্বের একটি বৈঠক হয়। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না এবং ধৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। সিজেপি-র দুই প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার দাবি, সরকার সেই সব দাবি মেনে নেওয়ার পরই যন্তর মন্তর থেকে ধর্না প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, দু'দিন কেটে গেলেও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। উলটে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও অসমের মতো রাজ্যগুলিতে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করে জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা ও ধরপাকড় চলছে।
সিজেপি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই বেআইনি পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তাঁরা আইনি পথে হাঁটবেন।আরও পড়ুন:
ধৃতদের এই আইনি লড়াইয়ে সাহায্য করার জন্য ইতিমধ্যেই এক কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রবীণ আইনজীবী ও কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল।
পড়ুয়াদের ওপর পুলিশের এই দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা করেছে ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট্স অ্যাসোসিয়েশন’ বা আইসা। সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা অভিযোগ করেছেন যে, শুধুমাত্র বিহারেই প্রায় পাঁচশো জন পড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সরকার তার প্রতিশ্রুতি পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। অন্যদিকে, সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারের পক্ষে সরব হয়েছেন। তিনি জানান, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে কোনও রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা একেবারেই অনুচিত।