পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার জেরে ককরোচ জনতা পার্টি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলেও, কলকাতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনই শান্ত হচ্ছে না। নিট বিতর্কের আবহে ছাত্র আন্দোলনের নামে শহরে অরাজকতা এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগ তুলে এবার পথে নামতে চলেছে বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবারের একাধিক শিক্ষা সংগঠন। এর ফলে চলতি সপ্তাহের সোম এবং মঙ্গলবার পর পর দু'দিন জোড়া মিছিলের সাক্ষী হতে চলেছে মহানগরী।

সোমবার বিকেল ৩টে নাগাদ উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির নেতৃত্বে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।

এই বিষয়ে উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, গণতান্ত্রিক কাঠামোয় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার সকলের থাকলেও, ছাত্র বিক্ষোভের আড়ালে 'আজাদি' স্লোগান বা অরাজকতা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। মূলত এই নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদেই তাদের এই জমায়েতের ডাক।

সাম্প্রতিক এই রাজনৈতিক উত্তাপের সূত্রপাত হয় গত শুক্রবারের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। নিট দুর্নীতি এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং 'ককরোচ' পরিচয়ে কিছু আন্দোলনকারী শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি মিছিল করে।

অভিযোগ, সেই মিছিল ধর্মতলায় পৌঁছানোর পর চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পুলিশের দিকে ইট-বোতল ছোড়ার পাশাপাশি কর্তব্যরত সংবাদমাধ্যম এবং বিশেষত মহিলা সাংবাদিকদের চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিকদের দেখতে যান এবং দোষীদের চিহ্নিত করে কড়া আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই তৎপর হয় প্রশাসন এবং শনিবারের মধ্যে ১৪ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। প্রশাসন কড়া হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করলেও, বিজেপি রাজনৈতিক স্তরে এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতায় বার্তা দিতেই পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।