নাজির হোসেন লস্কর: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবন এবার আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠার পথে। কেন্দ্রের ‘ওয়ান স্টেট, ওয়ান গ্লোবাল ডেস্টিনেশন’ প্রকল্পে সাধারণত একটি রাজ্যের জন্য একটি পর্যটন কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হলেও, পশ্চিমবঙ্গের আবেদনে সাড়া দিয়ে রাজ্যের জন্য দুটি বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্মতি মিলেছে। তার একটি দার্জিলিং, অন্যটি সুন্দরবন। রবিবার রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবসের অনুষ্ঠানে এই সুখবর জানান রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় রায়চকের তাজ গঙ্গা কুটিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনকে বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও পরিষেবা উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে খুব শিগগিরই পর্যটন দফতরের নিজস্ব হেল্পলাইন চালু হবে। পাশাপাশি আসছে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ, যেখানে স্বীকৃত হোমস্টে, হোটেল এবং অন্যান্য পর্যটন পরিষেবার বিস্তারিত তথ্য মিলবে। এর ফলে ভুয়ো বুকিং বা পর্যটনের নামে প্রতারণার সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে। শিলিগুড়ি কমিশনারেটে চালু হওয়া হেল্পলাইনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই উদ্যোগে প্রতারিত পর্যটকদের থেকে অভিযোগ পেয়ে প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে, পর্যটন ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় ম্যানগ্রোভের অপরিহার্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য, সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র শুধু উপকূলকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে না, বিপুল পরিমাণ কার্বন শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পরিবেশ রক্ষা ও স্থানীয় মানুষের জীবিকার উন্নয়ন—দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এগোতে হবে পর্যটনের বিকাশ।

এদিন ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য সুন্দরবনের একাধিক ব্যক্তি ও সংগঠনকে সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, সুন্দরবন উন্নয়ন দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা, বিধায়ক দেবাংশু পান্ডা ও সুমন্ত মণ্ডল, পর্যটন বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব বরুণ কুমার রায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক অভিষেক কুমার তিওয়ারি-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা।