অসমে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজ্যের ১২টি জেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বন্যাকবলিত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫ হাজার ১৪৮ জনে। 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর জেলা, যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৫৫৫ জন মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। এরপর রয়েছে চরাইদেও এবং জোরহাট।

এছাড়া গোলাঘাট, ডিব্রুগড়, হোজাই, নগাঁও, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, সোনিতপুর, কামরূপ (মেট্রো) ও কার্বি আংলং জেলাতেও বন্যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

বন্যার পানিতে রাজ্যের ৮৫৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি ৫৬ হাজার ৬০৬ হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এর প্রভাব আগামী দিনে খাদ্য উৎপাদন ও বাজারমূল্যের ওপর পড়তে পারে।

বর্তমানে ১ লাখ ১৫ হাজার ২০৫ জন মানুষ ৪৮৭টি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।

এছাড়া ৩৮১টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে দুই লাখেরও বেশি দুর্গত মানুষের কাছে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, দিখৌ, দিশাং, ধানসিরি (দক্ষিণ) ও কুশিয়ারা নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার স্রোতে কয়েকশো গবাদিপশু ভেসে গেছে এবং পাঁচ শতাধিক মুরগির খামার পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সরকার। আবহাওয়া দপ্তরও জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।