নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যখন দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ই বড় দাবি করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী। তাঁর অভিযোগ, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হবে না; বরং শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য কোনও মন্ত্রক দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রের অন্দরে আলোচনা চলছে।
শনিবার আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে রাহুল বলেন, “প্রথম দাবি হওয়া উচিত দুর্নীতিগ্রস্ত, অযোগ্য ও ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ করা। কিন্তু আমার কাছে যে তথ্য রয়েছে, তাতে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ নয়, শুধু অন্য মন্ত্রকে পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে। এটি দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ‘দুর্নীতির প্রতীক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়েছে। তাই শুধুমাত্র দফতর পরিবর্তন করে এই সংকটের সমাধান হবে না।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও তীব্র আক্রমণ করেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর বক্তব্য, “প্রধানমন্ত্রী অতীতের প্রতিনিধিত্ব করছেন, আর আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরাই ভারতের ভবিষ্যৎ। কোনও সরকার বা ক্ষমতাশালী শক্তি তাঁদের ন্যায্য দাবি থেকে সরাতে পারবে না।”
শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের উদ্দেশে প্রকাশিত ভিডিও বার্তারও সমালোচনা করেন রাহুল। তাঁর কথায়, “এখানে পরামর্শের বিষয় নয়, দাবির বিষয়। ছাত্রদের একটাই দাবি— ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করতে হবে। ভিডিও বার্তা দিয়ে সেই দাবিকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।”
এদিকে, ২৬ দিনের অনশন শেষে সরকারের আশ্বাসে অনশন প্রত্যাহার করেছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। শনিবার কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংগঠনের তৃতীয় দফার বৈঠকের আগে সিজেপি-র জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করার অবস্থানে সরকার অনড় থাকলে আলোচনার কোনও অর্থ থাকবে না।