প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে আনা সংশোধনী বিল নিয়ে মঙ্গলবার লোকসভায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। বিলের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, ছাত্র-যুবদের আন্দোলনই প্রমাণ করে দিয়েছে যে এই ইস্যুতে বিজেপি সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
অভিষেক বলেন, সংশোধনী বিলকে সমর্থন করলেও সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে নীরব থাকা যাবে না। তাঁর দাবি, শুধু শাস্তির মাত্রা বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না, প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধ কীভাবে প্রতিরোধ করা হবে, সেই বিষয়ে সরকারের কার্যকর পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।

তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “সরকার অমৃতকালের কথা বলছে, কিন্তু বাস্তবে এটি উদ্বেগের সময়। ছাত্র-যুবদের কণ্ঠস্বর লাঠি বা দমননীতি দিয়ে থামানো সম্ভব নয়।”

অভিষেকের বক্তব্য চলাকালীন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, সঞ্জয় জয়সওয়াল ও সতীশ গৌতম-সহ একাধিক সদস্য প্রতিবাদ জানালে লোকসভায় হইচই শুরু হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলের সমালোচনা করা হয়।
এর প্রতিবাদে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র স্পিকারের আসনের সামনে গিয়ে আপত্তি জানান।

কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে এবং এনসিপি (এসপি)-র সাংসদরাও বিরোধীদের সমর্থনে সরব হন। কিছু সময়ের জন্য অধিবেশনের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া মনরেগা তহবিল নিয়েও কেন্দ্রকে প্রশ্ন করেন তৃণমূল সাংসদ মালা রায় ও দীপক অধিকারী। জবাবে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী কমলেশ পাসোয়ান জানান, গত ১ জুনের পর পশ্চিমবঙ্গকে ৩৪৬ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে এবং নতুন প্রকল্পের জন্য ৮,৫০৮ কোটি টাকা অনুমোদিত হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের বকেয়া মনরেগা অর্থ নিয়ে তিনি কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য করেননি।