দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জেরেই এসএফআই-এর সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক ঐশী ঘোষকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেছে দিল্লি পুলিশ— এমনই অভিযোগ তুলেছে সিপিএম। দলের দাবি, একটি পুরনো মামলাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

সিপিএমের অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ ২০২১ সালের বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচি সংক্রান্ত একটি পুরনো মামলার সূত্র ধরে দিল্লি পুলিশ দলীয় সদর দফতর একেজি ভবনে ঢুকে ঐশী ঘোষকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করে। অভিযোগের সমর্থনে একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে দল। সেখানে রাজ্যসভার সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাসকে পুলিশের সঙ্গে তর্ক করতে দেখা যায়।


সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম.এ. বেবি এই ঘটনাকে “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর গুরুতর আঘাত” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বেশ কয়েক দিন ধরেই ঐশী ঘোষের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, পুলিশ ব্যক্তিগত গাড়িতে এসে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং উপস্থিত কয়েকজনের পরনে পুলিশের পোশাকও ছিল না। দলীয় নেতাদের বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়।
সাংসদ জন ব্রিটাসের অভিযোগ, পুলিশকে গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখাতে বলা হলে তারা জানায়, বিষয়টি নিয়ে ফোনে নির্দেশ পাওয়া হয়েছে।
তাঁর দাবি, ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখকে যে কোনও উপায়ে গ্রেফতার করাই ছিল দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উদ্দেশ্য। তিনি এই ঘটনাকে ২০ জুলাই ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের পদক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সেদিনও সাদা পোশাকের পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল।
ঘটনার নিন্দা করেছেন কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Pinarayi Vijayan। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, ভিন্নমত দমনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাঁর আহ্বান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সব মানুষেরই প্রতিবাদে সরব হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের দাবি, এটি সাম্প্রতিক কোনও ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। আদালতের নির্দেশে একটি পুরনো অজামিনযোগ্য মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই তদন্তকারী আধিকারিক দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বলে তাদের বক্তব্য।