পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দিল্লির রাজনৈতিক সমীকরণে ক্রমশ গুরুত্ব বাড়ছে তৃণমূলত্যাগী বিদ্রোহী সাংসদদের। মঙ্গলবার এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠকে একেবারে সামনের সারিতে দেখা গেল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-র মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং জেপি নড্ডার মতো বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সারিতেই তাঁর বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। খোদ প্রধানমন্ত্রীর ডান দিকের পঞ্চম আসনে কাকলির এই উপস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছে, লোকসভায় শাসকজোটে এনসিপিআই-এর রাজনৈতিক প্রভাব বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন:
নির্বাচন কমিশনের খাতায় এনসিপিআই ইতিমধ্যেই একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দল।
তবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ তৃণমূলত্যাগী ২০ জন সাংসদ লোকসভায় এখনও খাতায়-কলমে তৃণমূলের সদস্য হিসেবেই রয়েছেন। তাঁদের পৃথক দল হিসেবে স্বীকৃতির আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে। এ দিন বৈঠক থেকে বেরিয়ে কাকলি জানান, স্পিকারের কাছে তাঁরা স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র জমা দিয়েছেন। লোকসভায় আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার আগেই এনডিএ-র বৈঠকে ডাক পাওয়া প্রসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, শাসকজোট তাঁদের নিজেদের অংশ বলেই মনে করে। খুব শীঘ্রই সংসদে তাঁদের বসার জায়গা এবং আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন।আরও পড়ুন:
নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং সংসদের অচলাবস্থার মাঝেই মঙ্গলবারের এই বৈঠক আয়োজিত হয়। সোমবারই সংসদে প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর বিল পেশ করেছে কেন্দ্র, যদিও বিরোধীদের হট্টগোলে তা নিয়ে আলোচনা শুরু করা যায়নি। এ দিনের বৈঠকে মূলত সেই বিল নিয়েই আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে কাকলি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শতাব্দী রায় এবং সায়নী ঘোষের মতো এনসিপিআই সাংসদেরা। নিজের প্রথম এনডিএ বৈঠকে উপস্থিত থাকার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে সায়নী জানান, অত্যন্ত তথ্যসমৃদ্ধ এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে 'ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট' (এফটিএ) এবং 'ব্লু ইকোনমি' নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস রোধের বিলটিতে কারও বিরোধিতা করা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আসন পুনর্বিন্যাস বিল সংশোধনের প্রস্তুতির আবহেও এই বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।