পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: জাতীয় রাজনীতিতে ফের নয়া জল্পনা শুরু হয়েছে বর্ষীয়ান নেতা শরদ পওয়ারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে। সম্প্রতি কংগ্রেসের হাত ছেড়ে তাঁদের এনডিএ শিবিরে যোগ দেওয়ার জল্পনা জোরালো হয়েছিল। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা এবং তামিলনাড়ুতে আঞ্চলিক দলের বিপর্যয়ের পরেই এনসিপি দলের অন্দরে বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানোর চাপ বাড়ছে বলে খবর ছড়ায়। শোনা যায়, দলের অধিকাংশ সাংসদ ও বিধায়ক সরাসরি বিজেপির সঙ্গে যেতে চাইলেও, আজীবন কংগ্রেসি মতাদর্শে বিশ্বাসী শরদ পওয়ার নিজে কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাওয়ার পক্ষপাতী।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস এবং উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডের সঙ্গে তাঁর গোপন বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসায় দলবদলের জল্পনা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

তবে বুধবার সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছেন শরদ-কন্যা সুপ্রিয়া সূলে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁদের দল কোথাও যাচ্ছে না এবং তাঁরা ইন্ডিয়া জোটেই রয়েছেন। জোট বদলের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিলেও মোদি সরকারের আনা আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

সুপ্রিয়া জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার যদি প্রতিটি রাজ্যের লোকসভা আসন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করার বিষয়টি বিলে লিখিত আকারে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে তাঁরা ওই বিলটিকে সমর্থন করার কথা ভেবে দেখতে পারেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে কংগ্রেস-সহ সমগ্র ইন্ডিয়া জোটের মূল আপত্তির কারণ ছিল উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে সম্ভাব্য রাজনৈতিক বৈষম্য। বিরোধীদের আশঙ্কা ছিল, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বাড়ালে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণের রাজ্যগুলির তুলনায় উত্তরের রাজ্যগুলি বেশি সুবিধা পাবে। যদিও গতবার সংসদে বিলটি পেশ করার সময় অমিত শাহ আশ্বস্ত করেছিলেন যে, জনসংখ্যার নিরিখে নয়, বরং প্রতিটি রাজ্যের বর্তমান আসনের ঠিক ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধি করা হবে।