রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানিকে লক্ষ্য করে প্রস্তাবিত কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীনই রুশ জ্বালানির ক্রেতা দেশগুলোর ওপর পূর্বে প্রস্তাবিত ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে ভারত ও চীনের মতো রাশিয়ার প্রধান জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য চাপ কিছুটা কমতে পারে।
আরও পড়ুন:
রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের উদ্যোগে আনা দ্বিদলীয় বিলটির মূল লক্ষ্য রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা এবং দেশটির জ্বালানি রপ্তানি থেকে আয় সীমিত করা।
একই সঙ্গে ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোকে রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর বার্তাও দেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন:
সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব দেশ রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং ধীরে ধীরে সেই নির্ভরতা কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তারা শুল্ক থেকে অব্যাহতি পেতে পারে। এই সুবিধার আওতায় জাপান, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়াম আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বিলে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ট্যাংকার’ বহর, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ইয়ামাল এলএনজি ও আর্কটিক এলএনজি প্রকল্পগুলোর ওপরও নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
তবে জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনে কোনো দেশের ক্ষেত্রে এসব নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত বা শিথিল করার ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে।আরও পড়ুন:
বিলটি প্রথম ২০২৫ সালের এপ্রিলে উত্থাপিত হয় এবং বর্তমানে এটি সিনেটে উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে বিলের অন্যতম উদ্যোক্তা রিচার্ড ব্লুমেনথাল জানিয়েছেন, আপাতত নতুন বিষয় যুক্ত করে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া জটিল করতে তিনি আগ্রহী নন।
আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের এই সংশোধিত প্রস্তাব কার্যকর হলে রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে, তবে আগের তুলনায় ভারত, চীনসহ প্রধান আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য এর প্রভাব কিছুটা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।